সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪২ অপরাহ্ন

জানুয়ারি থেকে থ্রিজি মোবাইল আমদানি-উৎপাদন বন্ধ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্টঃ আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে থ্রিজি মোবাইল ফোন দেশে আমদানি ও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সামনের যুগের প্রযুক্তি হবে ফাইভ-জি।টুজি কিছুদিন চলবে, থ্রিজি মোবাইল আমদানি ও উৎপাদন জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। ফোর-জি হবে কমন প্ল্যাটফর্ম।

 

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (বিআইজিএফ) আয়োজিত ‘রিসাইলেন্ট ইন্টারনেট ফর এ শেয়ার্ড সাসটেইনঅ্যাবল অ্যান্ড কমন ফিউচার: এক্সেস অ্যান্ড কানেকটিভিটি, কমিউনিটি নেটওয়ার্কস, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল ইনক্লিউসন’ শীর্ষক অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বিআইজিএফ চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য লাগসই ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল ডিভাইস অপরিহার্য। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনধারায় অনিবার্য একটি বিষয় হিসেবে জড়িয়ে আছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইন্টারনেট সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি সবচেয়ে কম মূল্যে স্মার্টফোন সাধারণের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ইন্টারনেটের একদেশ একরেট চালু করেছি। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ইতোমধ্যেই শতকরা ৯৬ শতাংশ চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি মানুষ ইন্টারনেটের উচ্চগতিও এখন প্রত্যাশা করে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ যুগান্তকারি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে দেশে প্রতি এমবিপিএস ইন্টানেটের দাম ছিল ৭৮ হাজার টাকা, ২০০৮ সালে তা ২৭ হাজার টাকা, বর্তমানে তা ৬০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। সে সময় দেশে মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হতো তা বেড়ে বর্তমানে ৩৮ শত জিবিপিএস-এ উন্নীত হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হচ্ছে ইন্টারনেট। কাউকে এ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের খারাপ দিকও আছে আবার খারাপ দিক থেকে রক্ষার উপায়ও আছে। সেটা থেকে ছেলে-মেয়েদের সুরক্ষায় অভিভাবকদেরই ভূমিকা নিতে হবে। প্যারেন্টাইল গাইডেন্স ব্যবহার করে ইন্টারনেট শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২৬ হাজার পর্নো সাইট ও ৬ হাজার জুয়ার সাইট আমরা বন্ধ করেছি। এটি চলমান প্রক্রিয়া।

ছেলে-মেয়েদের ডিজিটাল দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইতোমধ্যেই প্রাথমিক স্তরে বই ছাড়া ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে আমি লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছি। দেশের ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা চালু করা হচ্ছে। আমি রাস্তাটা দেখালাম অন্যরা তা অনুসরণ করবে। সন্তানদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না দিলে আগামী পৃথিবীতে তারা টিকে থাকার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়বে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে ইন্টারনেট প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। ইন্টারনেট প্রযুক্তি দেশে নতুন অর্থনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কৃষক-শ্রমিক, প্রবাসী এবং গার্মেন্টেসের নারী কর্মীদের বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইটি তরুণ-তরণী। তিনি ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির, আইজিএফর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক অনু, ইয়থ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপার্সন সৈয়দা কামরুন জাহান রিপা ও কিডস ইন্টানেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপারসন আয়শা লাবিবা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!