মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

না’গঞ্জে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রনে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ!

বিশেষ প্রতিনিধিঃঅবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ড, বিস্ফোরণ, প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষে সব লাইন পুরোপুরি অপসারণ কঠিনই। কারণ অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা, স্থানীয় প্রভাবশালী সুবিধাভোগী শ্রেণি এবং গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা। ফলে বছরের পর বছর কেবল অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মুখে নানা হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে। তার পরও কমছে না অবৈধ গ্যাস সংযোগ বরং তা বেড়েই চলেছে। এর ফলে বাড়ছে নানা দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিগত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের কয়েক সংসদ সদস্য প্রার্থী অবৈধ গ্যাস সংযোগকে নির্বাচনী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রকাশ্যে জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন ভোট দিলে এলাকায় সবাইকে গ্যাস সংযোগের সুযোগ করে দেবেন। ওই সময় আইনানুগ গ্যাস সংযোগ বন্ধ ছিল। এখনো আবাসিকে গ্যাস সংযোগের অনুমতি নেই। এদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে কয়েক বছরে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার কথা।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের মসজিদে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাড়া ফেলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি ঘটনা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় অবৈধ গ্যাস সংযোগ অপারসণ সংক্রান্ত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র মতে, সবচেয়ে বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (তিতাস)। এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগকে পুঁজি করে তিতাসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাভবান হচ্ছেন। বৈধ হওয়ার সুযোগ না থাকায় অবৈধ ব্যবহারকারীদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে মাসে মাসে বিল আদায় করে নিজেদের পকেট ভারী করছেন কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগগুলো বৈধতা দিতে সংসদ সদস্যরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-সোনারগাঁ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোঁকা। নারায়ণগঞ্জ-সোনারগাঁও এলাকার সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বিদুৎ ও জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়েছেন যেসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারী আছেন তাদের নিয়মের আওতায় এনে বৈধতা দিতে। তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কোম্পানির একাধিক বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার অভিযোগ, কাগজ-কলমে হয়তো অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারীদের বৈধতা দেওয়া যাবে। তবে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারিগরি জটিলতা রয়েছে। তাদের অভিমত, গত ৮/১০ বছরে যারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছে তাদের অধিকাংশ নিম্নমানের পাইপ এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে এসব সংযোগ নিয়েছে। মূল পাইপলাইন থেকে গ্যাসের প্রেশার বাড়লেই এসব ব্যবহারকারীর বাড়িঘরে আগুন লেগে যাবে। অথবা নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে পাইপলাইন টানার কারণে খুব সহজেই এসব উপকরণ ক্ষয়ে ছিদ্র হয়ে যাবে। ফলে গ্যাস লিকেজ তৈরি হবে এবং দুর্ঘটনা ঘটবে। তাদের অভিমত, বৈধতা দেওয়া হলেও প্রতিটি সংযোগ ধরে তিতাস বা যে কোনো বিতরণ কোম্পানির অনুমোদিত পাইপ বা উপকরণ ব্যবহার করে আবার নতুন করে সংযোগ দিতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ তিতাসের পাইপলাইন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছি। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এমনভাবে গ্যাস নেটওয়ার্ক বা পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, অগ্নিকান্ড বা বিস্ফোরণ আরও ঘটতে পারে। সব জায়গায় অবৈধ গ্যাস পাইপলাইনের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী বা একটা সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছে। ফলে তিতাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে চাইলেও নানা প্রভাবে সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারছে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!