রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

না’গঞ্জে বিএনপির কর্তৃত্ব পেতে বিতর্কিতদের দৌড়ঝাঁপ!

বিশেষ প্রতিনিধিঃএক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিও দলীয় কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে দলটি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করার ক্ষেত্রে জেলা ও মহানগর বিএনপির গুটি কয়েক নেতা কর্মীকে পরিলক্ষিত করা যায় সর্বদাই। আর কর্মসূচী পালন করার ক্ষেত্রে যে সকল বিএনপির নেতৃবৃন্দই উপস্থিত থাকেন না কেন প্রতিটি নেতাকর্মীই পুলিশের অবস্থান নিশ্চিন্ত হয়ে কোন ভাবে ফটোসেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনে নাম সর্বস্ব ভাবে পালন করে থাকেন তাদের কার্য্যক্রম। ফলে অতীতে জেলা ও মহানগর রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় জেলায় বিএনপির রাজনীতি সর্বদাই ফ্লপ। আর ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে গুরুত্ব বহনকারী নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতির প্রভাব কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজনীতিতে বিরাজমান বলে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিমত করেন। সে দিক থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নড়বড়ে। কয়েক মাস পূর্বে আদালতের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হয়েছে। আর কয়েকদিন পূর্বে বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা বিএনপির কমিটি। যখন দলের এই দশা তখন নেতাকর্মীরা পদ লুফে নিতে শুরু করেছেন কাদা ছোড়াছুড়ি। তরুণ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দও শামিল হয়েছেন এতে। এমন বেগতিক অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা এমন একজনকে খুঁজছে যে এই সংকটকালে দলের হাল ধরতে পারবে। কিন্তু কে হবে সে?

গত ২৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন আদালত। কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যের অভিযোগ এনে ওয়ার্ড পর্যায়ের দুই নেতার দায়ের করা মামলায় আদালত এ নির্দেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় নির্দেশে জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আলোচিত বেশ কয়েকজন নেতা। সভাপতি পদের এই তালিকায় রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার, সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান। কমিটিতে জায়গা পেতে চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীদের দেয়া স্ট্যাটাসেই তার প্রমাণ মেলে।

এদিকে সাধারণ সম্পাদকের জন্য কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তবে এই পদে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ফিরে আসারও সম্ভবনা রয়েছে। বিগত কমিটিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে মামুন মাহমুদ আগের পদেই থেকে যাবার সম্ভবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!