বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২২ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে এখন আর গ্যাসের কোন গাড়ী নাই!

মো. মনির হোসেনঃ নারায়ণগঞ্জের বাসগুলো ইচ্ছা মতো ভাড়া নিচ্ছে, কিলোমিটার প্রতি হিসাব করে ভাড়া নিচ্ছে না, নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি কাউন্টার ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে, বিশেষ করে বন্ধন, উৎসব, শীতল বাসগুলো, তবে বাসচালক ও হেলপার সুপারভাইজাররা তাদের গাড়ি সিএনজিচালিত এ বিষয়ে অস্বীকার করেছেন, চালকদের সঙ্গে কথা বললে কেউই বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি, জানতে চাইলে সবাই দাবি করেন, তাদের তেলের গাড়ি, কিন্তু বেশীরভাগ গাড়ির পেছনের অংশে নিচে সিএনজি সিলিন্ডার (বোতল) দেখা যায়।

একটি সূত্র জানায়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মাত্র ১৫ শতাংশ বাস ডিজেলে চলে, বাকি বাস চলে সিএনজিতে, যদিও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এসব বাসগুলোও ধর্মঘটে বন্ধ থাকে, সরকার সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া না বাড়ালেও তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।

তবে রাস্তায় এখন সিএনজিচালিত বাস নেই দাবি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে এখন আর সিএনজিচালিত বাস নেই, যদি থাকে, সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ শতাংশ হবে, আমাদের পক্ষ থেকে তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে, তারা আগের ভাড়াই রাখবে, যদি বেশি রাখে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আদালত ব্যবস্থা নেবেন।

তাই একজন যাত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘এখন থেকে বাসে ওঠার আগে তাহলে (বাসের) নিচে দেখে নিতে হবে, দেখতে হবে সিলিন্ডার লাগানো আছে কিনা; গ্যাসে চলছে না ডিজেলে’, নারায়ণগঞ্জের যাত্রী আমানউল্লা গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়েই রসিকতার করে কথাগুলো বলছিলেন। পরক্ষণে আবার প্রশ্ন করেন, আসলে কোনটা ডিজেলচালিত আর কোনটা গ্যাসচালিত, এটা বুঝবো কীভাবে? সবগাড়িতে কী বোঝার উপায় আছে? আর সবাই কী এটা বুঝবে? আসলে সব ভোগান্তি আমাদের সাধারণ মানুষের, এবার তার সঙ্গে যোগ দিলেন বাসের অপেক্ষায় থাকা আরেক যাত্রী নাঈম, আমানউল্লার কথা রেশ ধরেই তিনি বলেন, ‘সব দায় আমাদের জনগণেরই, বাসে ওঠার আগে জিজ্ঞেস করতে হবে— সিএনজি না ডিজেল? বাসের ভেতর থেকে তো বোঝার কোনও উপায় নেই, বাসের সুপারভাইজার কিংবা হেলপার যা বলবে আমাদের তাই মেনে নিতে হবে।’

তবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের সঠিক দূরত্ব নির্ধারণ সবচেয়ে জরুরি বিষয়, প্রথমে সঠিক দূরত্ব নির্ধারণ করে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া কার্যকরের জন্য দাবি জানান যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম।

কিছু বাসের চালকরাও বলছেন, বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় নেই বাসটি সিএনজিচালিত না ডিজেল চালিত, বাসের পেছনের নিচের অংশে সিলিন্ডারের উপস্থিতি থাকলে বুঝতে হবে সেটা সিএনজিচালিত, এছাড়া চালকের পাশে একটি মিটার থাকে, সেটা দেখেও বোঝা যায়, তবে সাধারণ যাত্রী হিসেবে সবাই এ বিষয়টি বুঝতে পারবেন না, বিষয়টি বুঝতে চালক কিংবা হেলপারের বা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সহায়তা নিতে হবে।

যাত্রীরা কীভাবে সিএনজিচালিত বাস চিনবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, তিনি বলেন, বিষয়টি দেখভালের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটগণ অভিযান পরিচালনা করবেন, কোনও অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাত্রী হাসান মিয়া বলেন, ‘বন্ধন বাসে নারায়ণগঞ্জ থেকে গুলিস্তানের ভাড়া ছিল ৩৬ টাকা, কিন্তু এখন ৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। বাসের কন্ট্রাক্টর বলছে, সরকার আর কোম্পানি ভাড়া বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর পরিবহন ধর্মঘটের মুখে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার, সরকার শুধু ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া বাড়ালেও সারা দেশে সিএনজিচালিত বাসগুলোও নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া, বাড়তি ভাড়া নিতে যাত্রীদের সঙ্গে বিতণ্ডা করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ভাড়া ৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা, আনন্দ পরিবহন ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা আর শীতল পরিবহনের ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তখনই ছিল শতকরা ৮০ ভাগ বাস সিএনজিতে কনভার্ট করা, এ সংখ্যা বর্তমানে আরও বেড়েছে বলে আমাদের তার ধারণা।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল নেওয়াজ বলেন, পরিবহন মালিকরা ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধির জন্য তারা ধর্মঘট করেছিলেন, যা মূলত এক প্রকার জোর করে আদায় করা, আর জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট হয়েছে, আর সেই পরিবহন মালিকদের কথা মতো ভাড়া বাড়লো, এই মালিকরা তাদের ইচ্ছে মতো চলেন, তাদের অনেক ক্ষমতা, তাদের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে অনেক বড় বড় নেতা, যখন সরকার গ্যাসের দাম বাড়ায়, তখন সব বাস গ্যাসে চলে, ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, এখন বাস মালিকরা দাবি করছে, সব বাস ডিজেলচালিত, মূলত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে ৯৫ শতাংশ বাস গ্যাসে চলে।

তবে সাধারণ যাত্রীদের মতে, পরিবহণ সেক্টরে কারও কোনও নজিরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে, শুধু তাই নয় কোনও প্রশ্ন করলে খারাপ ব্যবহার করছে বাসের কন্ট্রাক্টর ও সুপারভাইজাররা ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!