রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও গুমের ৬ বছর পর ৬ আসামীকে অব্যাহতি

অব্যাহতি পেলেন ছয় আসামি (ইনসেটে জীবিত ফিরে আসা মামুন)

আলোকিত নারায়ণগঞ্জঃফতুল্লা থানার অপহরণ ও গুমের ৬ বছর পর ৬ আসামীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বিভ্রান্তিকর এই মামলায় নি:শ্ব হয়ে গেছে একটি পরিবার। এছাড়া বিচারক সিআইডি ও পুলিশের ৩ জনের মধ্যে দুইজনকে পরের শুনানীতে নথিপত্র সহ উপস্থিত হতে বলেছেন। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌসের আদালত ওই আদেশ দেন।

আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন সোহেল জানান, এর আগে ১নভেম্বর আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিআইডি ও পুলিশের ৩জনকে স্ব-শরীরে তলব করে আদালত। ৫ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ও এসআই জিয়াউদ্দিন উজ্জল আদালতে হাজির হন। পরে বিচারক সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে বাদ দিয়ে অপর দুইজনকে পরের শুনানীতে নথি সহ হাজির হতে বলেছেন।
আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন সোহেল আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি চাওয়ার প্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর রোববার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌসের আদালত সিআইডি ও পুলিশের ৩ জনকে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে জবার দেয়ার জন্য পরবর্তী শুনানী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য্য করেছেন। এছাড়া বিবাদী তাসলিমা, রকমত, রফিক, সাগর, সাত্তার, সোহেলকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত ৬জনকেই গ্রেপ্তার করে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। অভিযোগ রয়েছে রিমান্ডে থাকা সময়ে গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনকে মারধর করা হয়। এবং ৬জনকেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের কেউ আদালতে জবানবন্দী দেয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ মে মামুন অপহরণ হয়েছে অভিযোগ এনে দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামুনকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগ করা হয়েছিল।
ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে আসামীদের রিমান্ড চাওয়ার সময়ে আর্জিতে উল্লেখ করেন,;খালাতো বোন তাসলিমা ২০১৪ সালের ১০ মে মামুনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে অপহরণ করে বিষাক্ত শরবত পান করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিয়ে গুম করেছে।
পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশের অপরাধ বিভাগ সিআইডিকে ন্যস্ত করা হয়। সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করেন। এতে মামলার এজাহারভুক্ত ৬জনকেই অভিযুক্ত করেন। সাক্ষী করা হয়েছিল ২১ জনকে।
চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১০ মে খালাতো বোন তাসলিমাকে দিয়ে কৌশলে মামুনকে বাড়ি ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে মামনুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাসলিমা। কিন্তু বিয়েতে রাজী না হওয়াতে বিবাদী ৬ জন মিলে মামুনকে কোমল পানির সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে সিএনজি চালিতা অটো রিকশা করে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। তবে কোথায় কিভাবে কি অবস্থায় রাখা হয়েছে সেটা জানা যায়নি
এরই মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে এসে উপস্থিত হন কথিত অপহৃত হওয়ার চাঁদপুরের মতলব থানা এলাকার মোঃ আবুল কালামের ছেলে মামুন। সেই সাথে বিচারকি কার্যক্রমও অন্যদিকে মোড় নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!