করোনাভাইরাস উপসর্গ থাকা এক রোগীর কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ফি নিয়েও বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ না করে, তাকে নমুনা দেয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে সরকারি বুথে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এমন একটি ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে এ নিয়ে প্রশাসনে শুরু হয় তোলপাড়। বিষয়টি জানার পর নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ জেলার করোনা ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্তে নেমে প্রতিষ্ঠানটির এই অনিয়মের প্রমাণ পান। মঙ্গলবার বিকালেই সিভিল সার্জন অফিস থেকে ল্যাবএইড নারায়ণগঞ্জ শাখাকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রাখতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে একটি সূত্র না প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এমন ঘটনা চলে আসছে গত কয়েক মাস ধরেই।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জের জাহিদুল ইসলামের করোনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবএইড নারায়ণগঞ্জ শাখায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা ফি (মানি রিসিট নং-৫২৩৩৯৯) জমা দেয়া হয়। আগামী ২৪ জুলাই তার রিপোর্ট দেয়ার তারিখ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বাড়িতে গিয়ে নমুনা নিয়ে আসার কথা থাকলেও উপসর্গ থাকা জাহিদুলকে বলা হয় শহরের কালীর বাজার এলাকায় অবস্থিত নবনির্মিত সিজিএম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবন) ভবনের নিচ তলায় গিয়ে নমুনা দিয়ে আসতে।
জানা গেছে, করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের জন্য ওই ভবনের নিচে সিভিল সার্জন অফিসের একটি সরকারি বুথ রয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক এখানে দুইশ টাকা ফি দিয়ে নমুনা দেয় রোগীরা। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনের নজরে এলে নমুনা দিতে আসা জাহিদুল ঘটনার সত্যতা তুলে ধরেন।
খবর পেয়ে ল্যাবএইডে গিয়ে ডা. ইমতিয়াজ ও ডা. জাহিদ দেখতে পান, সোমবার (২০ জুলাই) ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ ২ জন পুরুষ এবং একজন নারীর নমুনা সংগ্রহ করেছে। এদের মধ্যে সরকারি বুথে ৩ জন রোগীর একজন জাহিদুল ইসলামের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ জানান, মঙ্গলবার বিকালে ল্যাবএইড নারায়ণগঞ্জ শাখাকে নতুনভাবে যেন আর নমুনা সংগ্রহ করা না হয় সেজন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন........