বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

নিহত ফটো সাংবাদিক নাদিম আহম্মেদের স্বপ্ন পূরূন হলনা

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ:নাদিম আহম্মেদ পেশায় বেসরকারী টেলিশিন (এন,এ,এন) টিভি ও জাতীয় সাপ্তাহিক ভোরের দিগন্ত পত্রিকায় ছিলেন একজন ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। নিয়মিত পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন নাদিম আহম্মেদ।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরনে গুরুতর আহত হন। ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। উক্ত বিস্ফোরণে এ ঘটনায় নাদিম আহম্মেদ সহ ৩১ জন নিহত হন। মৃত্যুকালে নাদিম স্ত্রী লিমা ও একমাত্র ছেলে নাফি (১৫) কে রেখে যান।

নাদিমের মৃত্যুতে সাংবাদিক সহ সকল মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। নাদিমের প্রিয় ক্যামেরাটিও বিস্ফোরণে পুড়ে যায়। নাদিমের সেই পুড়ে যাওয়া ক্যামেরা ও ছবি দেখে কান্নায় ভেংঙ্গে পড়ছেন স্ত্রী লিমা। বাবার ছবি দেখে সময়ও কাটাচ্ছেন একমাত্র ছেলে নাফি। কখনো কখনো দু চোখে জলও ফেলছে।

নাদিমের স্ত্রী লিমা বলেন, নাদিম বলতো হজ্ব করার সামর্থ্য আমার নাই। আমার মৃত্যু যেন মসজিদে হয় নামাজ পড়া অবস্থায় হয়। আল্লাহ তার ডাক শুনেছেন। তবে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে ভাবতে পারিনি। কিছু রেখে যায়নি সে। আমি ছেলেকে নিয়ে কি ভাবে চলবো।

নাদিম নাসিক ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুুর ফুফুর বাড়িতে ভাড়া থাকতো। শকু ও তার স্ত্রী দীপা হাসেম তার ফুফুকে বলে নাদিম যে বাসায় ভাড়া থাকে তার ভাড়া ৫ বছরের জন্য মওকুফ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় নাদিমের ছেলের ডিগ্রি পর্যন্ত পড়ার সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন এই কাউন্সিলর। দিয়েছেন খাদ্য ও নগদ অর্থ। তবে জেলা প্রশাসন ও সরকারি কোন অনুদান পাননি এখনো পর্যন্ত।

নাদিমের ছেলে নাফি বলেন,আব্বুর ইচ্ছা ছিল আমাকে সরকারী চাকুরীজীবী বানাবে। আমার বাবা ইচ্ছটা আর পূরন হলনা।

নাদিমের স্ত্রীর তার ছেলেকে একটি সরকারি চাকুরীর ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!