শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ২৬, চালক গ্রেপ্তার

আলোকিত নারায়ণগঞ্জঃ মাদারীপুর জেলার শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পদ্মার পাড়। সন্তান হারিয়ে বাবার আর্তনাদ, ভাই হারিয়ে ভাইয়ের কান্নায় পদ্মাপারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, সোমবার ভোর ছয়টার সময় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় একটি স্পিডবোট। কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে আসলে নোঙর করে রাখা একটি বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রীর মৃত্যু হয়। বেঁচে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৫ জনকে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরলে নিহতদের স্বজনেরা আসতে শুরু করে শিবচরের পদ্মার পাড়ে। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পদ্মার পাড়।

নিহতদের মধ্যে মাদারীপুর সদর, শিবচর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, খুলনা, বরিশাল, নড়াইল জেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। তারা ভোরে বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা থেকে ফিরছিলেন।

নাজমুল নামের নিহতের এক ভাই বলেন, সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে ভাই ঢাকা থেকে রওনা হন। স্পিডবোটে উঠার আগে কথা হয়েছিল। পরে আর খোঁজ পাইনি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শিবচরের পদ্মার পাড়ে এসে ভাইকে সনাক্ত করি।’

আহাজারি করতে করতে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর আদুরি বেগম বলেন, স্বামী, সন্তান সবই হারালাম পদ্মায়। আমরা তিনজনই বাড়ি ফিরতেছিলাম।’

কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, আমার ইয়ামিন (৩) নাই। স্বামী নাই। সব শ্যাষ আমার।

আনোয়ার হোসেন নামে নিহত একজনের ছোট ভাই সোহাগ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ভাই বাড়ি আসবে আজ। রওনা দিয়েও ফোন দিয়েছিল। ভাই বাড়ি ফিরেছে। তবে লাশ হয়ে।

নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারুখালির মনির মিয়া (৩৮), হেনা বেগম (৩৬), সুমি আক্তার (৫) ও রুমি আক্তার (৩), ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙা গ্রামের আরজু শেখ (৫০) ও ইয়ামিন সরদার (৩), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সাগর ব্যাপারী (৪০), কুমিল্লার দাউদকান্দির কাউসার আহম্মেদ (৪০) ও রুহুল আমিন (৩৫), মাদারীপুর জেলার রাজৈরের তাহের মীর (৪২), কুমিল্লা তিতাসের জিয়াউর রহমান (৩৫),

মাদারীপুরের শিবচরের হালান মোল্লা (৩৮) ও শাহাদাত হোসেন মোল্লা (২৯), বরিশালের তেদুরিয়ার আনোয়ার চৌকিদার (৫০), মাদারীপুর রায়েরকান্দি মাওলানা আব্দুল আহাদ (৩০), চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), নড়াইলের লোহাগড়া রাজাপুর জুবায়ের মোল্লা (৩৫), মুন্সিগঞ্জ সদরের সাগর শেখ (৪১), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সায়দুল হোসেন (২৭) ও রিয়াজ হোসেন (৩৩), ঢাকা পীরেরবাগ খোরশেদ আলম (৪৫), ঝালকাঠি নালসিটির এসএম নাসির উদ্দীন (৪৫), বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জের মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫), পিরোজপুরের চরখামার মো. বাপ্পি (২৮), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার জনি অধিকারী (২৬)।

এরমধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত হয়েছেন চারজন। মাদারীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে।

বিকেলে স্পিডবোটের চালক শাহ আলমকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় দুপুরে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি করা হয়। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশাদুজ্জামান, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন, শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন, মাদারীপুর শিবচর চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ইনচার্জ শেখ মো. আব্দুর রাজ্জাক ও নারায়ণগঞ্জ পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. আসমাদুল।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হবে।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে সোমবার সকাল পৌনে ৭টায় ৩০ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি ছেড়ে আসে। এ সময় মাদারীপুর কাঁঠালবাড়ী বাংলাবাজার পুরোনো ঘাটে থেমে থাকা বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। পরে নদী থেকে ২৪ লাশ উদ্ধার করা হয়। ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!