রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

ফতুল্লার যে বাড়ী থেকে মাদক সেবীরা ফিরে না খালি হাতে!

বিশেষ প্রতিনিধি:গাঁজা-ইয়াবা-ফেনসিডিল-বিদেশী মদ থেকে শুরু করে ফতুল্লার মাদক সেবীদের যে কোন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে একটি বাড়ী থেকে। অনেকটা প্রকাশ্যে অদৃশ্য ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের ব্যবসা। বাধাহীনভাবে একক আধিপত্যে দীর্ঘদীন ধরে চালিয়ে আসছে মাদক ব্যবসা। প্রতিদিনি শত শত মাদক সেবীদের আনাগোনায় ত্যাক্ত বিরক্ত স্থানীয় এলাকায় বসবাসরত সাধারন বাসিন্দারা। বাধাহীন এবং স্থানীয় প্রশাসনের গ্রেফতার এড়াতে ইয়াবা ডিলার দিদারের আপন ভাগিনা একাধিক মাদক মামলার আসামি সাদ্দামকে পুলিশের সোর্স হিসেবে নিয়োগ করেছেন দিদার। সোর্স সাদ্দামের কাজ হচ্ছে পুলিশের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা এবং পুলিশের ভ্যানে করে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় চষে বেড়ানো। মাদকের ডিলার ইয়াবা দিদারের এ সকল কর্মকান্ডের কারনে ত্যাক্ত বিরক্ত সাধারন মানুষ। হয়রানীর আশংকা থাকা স্বত্ত্বেও তাদের ভবিষৎ প্রজন্মকে মাদকের কড়াল থাবা থেকে রক্ষার্থে একাধিকবার প্রতিবাদও করেছিলেন। তবে স্থানীয় সাধারন মানুষ প্রতিবাদ করেও কোন ধরনের প্রতিকার পাননি। উল্টো ইয়াবা ডিলার দিদারের নিয়োগ দেয়া ভাগিনা পুলিশ সোর্স সাদ্দামের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে অপব্যবহার করে প্রতিবাদ কারীদের উল্টো মাদকের তকমা লাগিয়ে হয়রানী করে আসছে সে। দীর্ঘদীন ধরে এ অবস্থা চলে আসায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ টুকু করারও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার তালিকাভূক্ত ইয়াবা ডিলার দিদার এবং ভাগিনা নাইম এবং ভাতিজা পিয়ালের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো আমরাই মাদক ব্যবসায়ী বনে যাচ্ছি। আমাদের উপর মাদক ব্যবসায়ীর তকমা লাগিয়ে দিয়ে ভাগিনা সোর্স সাদ্দামের মাধ্যমে পুলিশি হয়রানী হচ্ছি। কয়েক দফা এমন হয়রানী হওয়ার পর এখন আর স্থানীয় সচেতন সমাজ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এ অবস্থায় অনেকটা বাধাহীনভাবে নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদক ব্যবসা। ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদক সেবীদের আনাগোনার কারনে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। আগামি প্রজন্মের ভবিষৎ তাদের সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষত্যের কারনে আতংকের মধ্যে থাকতে হচ্ছে অভিভাবক মহলকে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইয়াবা ডিলার এবং দিদারের বাড়ীকে মাদকের বাড়ী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এলাকাবাসী মনে করেন, একমাত্র আল্লাহ পাড়েন ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বর্তমান তরুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে। যদি আল্লাহর গজব ইয়াবা ডিলার দিদারের উপর পড়ে তাহলেই ফতুল্লার মুসলিমনগর এতিমখানা এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

জানা যায়, ফতুল্লার মুসলিমগর এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে ইয়াবা ডিলার দিদার। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকাসহ আশে পাশের এলাকায় পাইকারী ও খুঁচরা ইয়াবা সরবরাহ করে আসছে। একাধিকবার বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে সে। ডজন খানেক মাদক মামলার আসামি ইয়াবা ডিলার মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে করার জন্য ভাগিনা সাদ্দামকে ফতুল্লা পুলিশের সোর্স হিসেবে নিয়োজিত করেন। ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার মৃত নান্নু কসাইয়ের ছেলে সাদ্দামও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সোর্স সাদ্দামের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এদিকে সোর্স সাদ্দামের কাজ হচ্ছে পুলিশের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা। এমনকি দিদারের মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য কেউ প্রতিবাদ করলে পুলিশ হয়রানীর জন্য সোর্স সাদ্দামকে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি স্থানীয় একাধিক যুবক ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তাদেরকে সোর্স সাদ্দামের মাধ্যমে পুলিশি হয়রানী করারও অভিযোগ উঠেছে। ইয়াবা ডিলার দিদারের অপর ভাগিনা নাঈম। একই এলাকার নান্নু কসাইয়ের ছেলে এবং সোর্স সাদ্দামের আপন ছোট ভাই। ফতুল্লার এতিম খানা, মুসলিমনগর এবং বক্তাবলীসহ আশে পাশের এলাকায় বিদেশী মদ সরবরাহ করে থাকে নাঈম। একক নিয়ন্ত্রনে দীর্ঘদীন ধরে বিদেশী মদের রমরমা ব্যবসা করার মাধ্যমে অঢেল অর্থের মালিক বনে গেছে সে। গার্মেন্ট চাকুরি করে এমন প্রচারনার মাধ্যমে চালিয়ে আসছে বিদেশী মদের ব্যবসা। অবৈধ অর্থের মালিক বনে যাওয়ায় স্থাণীয় মুরুব্বীদেরকেও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য চলাফেরা করাই বেয়াদবের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে স্থাণীয় পঞ্চায়েতের অভিযোগ। ইয়াবা ডিলার দিদারের আপন ভাতিজা পিয়াল। মুসলিমনগর এলাকার আউয়ালের ছেলে সে। প্রকাশ্যে ফিল্মি ষ্টাইলে গার্মেন্ট কর্মী সাজ্জাদকে পিটিয়ে হত্যা করার মূল হোতা পিয়াল। সাজ্জাদ হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভূক্ত আসামি সে। হত্যা মাদকসহ একাদিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থাণীয় এলাকায় বিয়ার ব্যবসার নিয়ন্ত্রন করে থাকে পিয়াল। এমনকি নির্বিঘ্নে এলাকায় মাদকের ব্যবসা চালানোর জন্য বিয়ার বাহিনী নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছে পিয়াল। দলবল নিয়ে বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জে সজ্জিত হয়ে এলাকায় মহড়া প্রদানের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই বিয়ারের কেস ডেলিভারী দিয়ে থাকে পিয়াল। বলা চলে গ্যাং লিডার পিয়ালের এমন কর্মকান্ড ত্যাক্ত বিরক্ত সাধারন মানুষ সর্বদাই থাকেন আতংক। মাদকের বাড়ী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ইয়াবা ডিলার এবং মাদকের ডন দিদারের মাদক ব্যবসা বন্ধসহ বিয়ার গ্যাং গ্রুপের কর্মকান্ড বন্ধ করার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত সমাজ একাধিকবার নির্দেশনা দিলেও ড্যাম কেয়ার মোডে চালিয়ে আসছে দিদারের মাদক ব্যবসা। বর্তমানে মাদক বাড়ীর মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া আর কোন উপায়ন্ত নেই বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ। এমনকি ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদক ব্যবসার জন্য প্রশাসনিক শেল্টার দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা মডেল থানার বিতর্কিত এস আই রাছেলের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদক ব্যবসা বন্ধে স্থাণীয় লোকজন প্রতিবাদ করলেই সোর্স সাদ্দাম ফতুল্লা থানার এস আই রাসেলের মাধ্যমে প্রতিবাদকারী যুবকদের নানা ধরনের হয়রানী করে থাকেন। এমনকি সম্প্রতি এক সাংবাদিক ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রতিবাদী কারী যুবকদের হয়রানীর বিষয়ে জানতে চাইলে এস আই রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং এস আই রাছেলের ইন্ধনে সোর্স সাদ্দাম এবং ইয়াবা ডিলার দিদার, ভাতিজা পিয়াল ভাগিনা নাঈম শারীরিকভাবে ঐ সাংবাদিককে লাঞ্চিতও করেন। পরে বিষয়টি তাৎক্ষনিক ফতুল্লাবাসীর আস্থার প্রতীক ওসি আসলাম হোসেনকে অবগত করা হলে তিনি রাছেলকে ইয়াবা ডিলার দিদারসহ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিলেও উল্টো ইয়াবা ডিলার দিদারকে ওসি আসলাম হোসেনের কথা বলে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন করেছে বলেও এলাকায় প্রকাশ পেয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, মাদক ব্যবসায়ীর পরিচয় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে। কোন ভাবেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়া হবে না। সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত হওয়ার সাথে সাথেই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। অপর এক প্রশ্নে ওসি বলেন, ইয়াবা ডিলার দিদারের মাদক ব্যবসায় শেল্টারের এস আই রাছেল জড়িত রয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। তবে মাদক ব্যবসায়ী দিদারের ভাগিনা সোর্স সাদ্দামের বিষয়ে এস আই রাছেলকে প্রশ্ন করা হলে সাদ্দাম নামের কাউকে চিনে না বলে রাছেল দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গ, আইনের সু-শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ফতুল্লাবাসীর আস্থার প্রতীকে অবর্তীন হয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন। এমনকি করোনাকালীন সময়ে প্রকাশ্যে মানুষকে সচেতন এবং গোঁপনে অনেকটা লোক চক্ষুঁর আড়ালে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবার গুলোতে খাদ্য সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মানবিকতায় এক দৃষ্টান্ত স্থাপনসহ নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ভাবমূতি উজ্জলে বিশেষ অবদান রেখেছেন ওসি আসলাম হোসেন। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের বর্তমান সেবামূলক কর্মকান্ড এবং আইন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফতুল্লাবাসী ওসি আসলাম হোসেনের জন্য দোয়াও করেছেন এবং আইনের সু-শাসন প্রতিষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ফতুল্লাবাসীর আইডল হিসেবে সারাটা জীবকন তাকে মনে রাখবেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!