রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

ফতুল্লায় মারিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার স্বামী-শাশুড়ি-দেবর

আলোকিত নারায়ণগঞ্জঃফতুল্লার মাসদাইরে শুক্রবার সকালে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নববধূ মারিয়া আক্তারকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মা রহিমা বেগম মেয়ের স্বামী রিফাতসহ চারজনকে আসামি করে শনিবার ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।এর আগে শুক্রবার বিকেলে মারিয়ার শাশুড়ি, স্বামী ও দেবরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে স্বামী ও দেবরের সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। মামলার আসামিরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার আউটশাহী গ্রামের লিটন শেখের ছেলে ও ফতুল্লা মডেল থানার মাসদাইর ছোট কবরস্থানের শাহাদাতের বাড়ির চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া নিহত মারিয়া আক্তারের স্বামী রিফাত (২১), নিহতের দেবর আশরাফুল (১৮), নিহতের শাশুড়ি আনেয়ারা বেগম (৫০) ও নিহতের স্বামীর বোনজামাই সাহেদ বাবু (২৫)।

নিহত মারিয়া আক্তারের মা ও মামলার বাদী রহিমা বেগম জানান, তার স্বামী শহীদ মীর দুবাই প্রবাসী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। গত চার মাস আগে পালিয়ে গিয়ে একই জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার আউশাহি গ্রামের মালেয়শিয়া প্রবাসী মো: লিটনের ছেলে রিফাতকে প্রেম করে বিয়ে করেন তার মেয়ে মারিয়া আক্তার।

তিনি জানান, ওই সময় রিফাতের মা, বোন, বোন জামাইসহ পরিবারের সদস্যরা তার মেয়েকে নিয়ে তাদের বাসায় গিয়ে বলে যে মারিয়া তাদের রিফাতের সাথে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি মেনে নেয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করে। তখন তারা মেয়ে মারিয়া আক্তারকে রেখে দিতে চাইলে রিফাতের মা, বোন অনেকটা জোরপূর্বক মারিয়াকে নিয়ে তাদের বাসা থেকে চলে আসে। পরবর্তীতে তারা বিয়ের কথা জানতে পেরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিষয়টি মেনে নেন।

তিনি আরো বলেন, শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে তার মেয়ের স্বামীর বোনজামাই সাহেদ বাবু তাদের এক নিকটাত্মীয়কে ফোন করে জানান যে সিঁড়ি থেকে পরে গিয়ে তার মেয়ে মারিয়া আহত হয়ে হাসপাতালে আছে। তারা তা জানতে পেরে ছুটে আসেন জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে। সেখান এসে তারা শুনতে পান তার মেয়েকে ডাক্তার পরীক্ষা করছে। ৩০ মিনট পরও তার মেয়েকে তারা দেখতে না পেয়ে দেখার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে জানতে পারেন যে তার মেয়ে মারা গেছে। এ সময় কৌশলে হাসপাতাল থেকে তার মেয়ের জামাই রিফাত চলে যান। পরে পুলিশ মাসদাইরের বাসা থেকে রিফাতকে আটক করে।

ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, গৃহবধূ মারিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি শুরুতেই হত্যা বলে মনে হয়েছিল। পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত হয়েই ঘটনার পরপর শহরে অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী, দেবর ও শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের মা শনিবার চারজনের নাম উল্লেখ্য করে মামলা দায়ের করেছেন। তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারনামীয় অপর একজনকে গ্রেফতার অভিযান অব্যহাত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!