বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

ফতুল্লায় যত্র তত্র অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

তেলের দোকানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

আলোকিত নারায়ণগঞ্জঃনিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। জেলার ফতুল্লা মডেল থানা এলাকার যেখানে-সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে এলপি (সিলিন্ডার) গ্যাস। মুদি দোকান থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জের দোকান, লাকড়ির দোকান, ফোন-ফ্যাক্সের দোকান,হার্ড ওয়ারের দোকান,জ্বালানী তেলের দোকান,সিমন্টের দোকান, স্যানিটারির দোকানেও এসব সিলিন্ডার গ্যাস অবাধে বিক্রি হচ্ছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এসব গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্নক দূর্ঘটনা।প্রাণহানীর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। সিলিন্ডার বিক্রিতে কোথাও কোথাও গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আবাসিক বাড়ী।
সরজমিনে ফতুল্লা বাজার,পঞ্চবটী,পোস্ট অফিস বাসস্ট্যান্ড,পাগলা,শীবু মার্কেট,কাশিপুর,ভোলাইল,কাঠেরপুল সহ ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ দোকানির এলপি গ্যাস বিক্রির অনুমোদন নেই।দোকানের পাশাপশি রাস্তায় রেখে বিক্রি করা হচ্ছে এ সকল গ্যাস সিলিন্ডার।গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা আশপাশের দোকান মালিকরা প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস না দেখালেও সাংবাদিক পরিচয় জেনে অনেকেই এগিয়ে এসে নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন,প্রতিটি সময় ভয়ে কাটে তাদের কখোন যেনো কি হয়ে যায়? গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কখোন যেনো তাদের প্রাণ প্রদীপ নিভে যায়।তাই সব সময় সতর্ক থাকতে হয় তাদের। অবাক করা বিষয় হলো এ সকল বিষয়গুলো দেখার দ্বায়িত্ব যে বিভাগটির জেলার সেই পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের বিপরীতেই রয়েছে একটি এলপি গ্যাসের দোকান।সেই দোকানের গোডাউনের হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে দোকানটির ঠিক পিছনেই একটি বাড়ীর কক্ষ ভাড়া নিয়ে। তারপরও অনেক দোকানে পুরনো সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় ও মজুদ করতে পরিবেশ অধিদফতর, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর সহ জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ থাকলেও শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় জেলার অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন সাইজের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকাও নেই।
এসব মৌসুমি দোকানিদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুনও জানা নেই। নিন্মমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রিও হচ্ছে।সরকারী ভাবে নতিন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় বাসা- বাড়ী এবং রেস্তোরাগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে এলপি গ্যাসের চাহিদা। বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও রেস্তোরাগুলোতে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এবং দামও রাখা হচ্ছে ইচ্ছামতো।
এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়মকানুন না জানায় দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে কোথাও কোথাও। এছাড়াও বিভিন্ন সিলিন্ডার বিক্রয়কারী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার কথা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তা থাকলেও অনেক স্থানেই ব্যবস্থা নেই। জানা যায়,নতুন করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা নতুন আবাসিক বহুতল ভবন এবং বাসা- বাড়ীতে গ্যাসলাইন না থাকায় তারা সিলিন্ডার গ্যাসনির্ভর হয়ে আছে। এ চাহিদার সুযোগে সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণেও কোনো বালাই নেই। জনবহুল আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ ব্যবসা চললেও দেখার কেউ নেই। সিলিন্ডার গ্যাসের ছড়াছড়ি আর বিক্রির হিড়িকের কারণে দুর্ঘটনার শংকাও রয়েছে অনেক বেশি।
ফতুল্লা বাজারের ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জানান,এলপি গ্যাস বিক্রি করতে হলে ব্যবসায়ীক ট্রেড লাইসেন্সের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স,বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন বা লাগবে।কিন্তু অধিকাংশ দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ব্যাতিত কিছুই নেই তাদের। অপরদিকে ফতুল্লা বাজার সহ বিভিন্ন স্থানের এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই সিলিন্ডার বিক্রি করে আসছি। কিন্তু অনুমোদন বা লাইসেন্সের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই।
নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!