বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

ফতুল্লা লঞ্চঘাট! যাত্রীকে নাজেহাল করা যেখানে নিত্তনৈমিত্তিক বিষয়!!

গোল চিহ্নিত সবুজ চৌধুরী । এক যাত্রীকে মারধর করছে।

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা লঞ্চঘাট। নৌপথে বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চে করে আসা-যাওয়াকারী যাত্রীদের একটি ভোগান্তির অপর নাম। এখানে প্রতিদিন কি পরিমান মানুষকে নাজেহাল হতে হয় লঞ্চঘাটে থাকা স্টাফদের কাছে তা চোখে না দেখলে মুখে বলে বিশ্বাস করানোটা অনেকটাই কষ্টকর ব্যাপার।

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এবং এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় অভিমুখকারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানী ও নাজেহাল করাটা যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হিসেবে দাড় করিয়েছে ঘাটের স্টাফরা। গ্রামের বাড়ি থেকে একটি মুরগী সাথে করে আনলে ১০০ টাকা,কোন খাদ্যসামগ্রীর বস্তা থাকলে ৩০০টাকা, কোন পশু যেমন ছাগল ও গরুর জন্য যথাক্রমে ৫০০ ও ১০০০ টাকা, অন্যান্য সামগ্রীর জন্য ৫০ টাকা এবং ঘাটে প্রবেশের জন্য মাথাপ্রতি ১০ টাকা যেন বাধ্যতামুলক করেছেন কর্তৃপক্ষ। আবার শহর থেকে গ্রামে যাওয়ার সময় টিভি,ফ্রিজ,ফ্যান বা কোন প্রকার ইলেকট্রিক সামগ্রীর জন্য ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা,ছোট থেকে বড় আকৃতির বস্তার জন্য ১০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছে। যদি কেউ তাদের চাহিদাকৃত অর্থ দিতে ব্যর্থ হন তাহলে গ্রাম থেকে আগত যাত্রীকে নাজেহাল পরবর্তী ফিরতি লঞ্চে গ্রামে যেতে বাধ্য এবং শহর থেকে গ্রামমুখীকে গ্রামে যেতে বাধা করাটা ওদের কিছুতেই গায়ে বাধেনা। এর মধ্যে যদি কেউ প্রতিবাদী হয় তাহলে তার কপালে কি পরিমানে দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসে তা বলাবাহুল্য নয়।

ফতুল্লা লঞ্চঘাটে ষ্টাফদের হাতে নাজেহালের একটি ঘটনা নিয়ে এক যাত্রীর ফেসবুকে ষ্ট্যাটাসটি পাঠকের সুবিধার্থে হুবুহু পরিবেশন করা হলো। মেহজাবিন ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন স্ট্যাটাস! এ যেন দেখার কেউ নাই। ঘটনাটি আজ ১৯/০৯/২০,সকাল ৬ঃ৩০ এ,নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা লঞ্চ ঘাটে।। সকালে এক আত্মীয়কে রিসিভ করতে গিয়ে অপেক্ষা করি। ভিতরে কেউ ডুকতে গেলে ১০ টাকা নিচ্ছে। বের হতে যার কাছে যা পারে তাই নিচ্ছে। অনেক্ক্ষণ ধরেই শুরু দেখছিলাম। # তারপর দক্ষিণ অঞ্চল থেকে আসা লঞ্চের যাত্রীদের কাছ থেকে যার থেকে যা পারছে টাকা নিচ্ছি। যদি কোন বস্তা বা ব্যাগে কিছু মালামাল,হাস, মুরগি, হাতে বাজারের ব্যাগ থাকলেই দিতে হয় ৬০-১০০ টাকা। এমন ও দেখা যায় ব্যাগের মধ্যে গ্রামের বাড়ি থেকে শাক নিয়ে এসেছে যার দাম হবে ১০০ টাকা,কিন্তু বাজারের ব্যাগে আনাতে দিতে হলো ১০০ টাকা। # সকাল থেকে প্রায় ১০ জন লোকের সাথে ফতুল্লা ঘাটের ইজারদারের লোকজনের সাথে যাত্রীদের তর্ক বিতর্ক,গায়ে হাতাহাতি হয়। #নিয়ম হলো জেটিতে ডুকতে ৫ টাকা লাগে,আর বের হতে টাকা লাগে না। ব্যবসায়িক মালামাল না হলে কোন টাকা লাগে না। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হতে হয় নানা হেনেস্তা,অপমান ও মাইরও খেতে হয়। ফতুল্লার মত এমন কারবার অন্য কোন ঘাটে আছে কিনা জানা নাই। ঘটনা হলে এক বৃদ্ধের কাছে বাড়তি টাকা চেয়ে বৃদ্ধ দিতে অস্বীকার করলে তাকে প্রথমে( **ভিডিওতে মোটা এবং আমাকে মারতে আসা লোকটা) গায়ে হাত তুলে,থাপ্পড় মারে। অনেকক্ষণ হাতাহাতির পর আমি ভিডিও করলে আমাকেও মারতে আসে, মোবাইল নিয়ে যায়,আমাকে আটকিয়ে রাখে,ভিডিও ডিলিট করতে বলে। অনেক তর্ক বিতর্ক করার পর আমি মোবাইল নিয়ে আসতে গেলেও ইজারাদারের লোকজন আমাকে রাস্তায় তিন বার আটক করে মোবাইল নেয়ার জন্য হুমকি দেয়।। শেষ পর্যন্ত পারে নাই। #ভিডিও শুরু করার সাথে সাথেই মোবাইল নিয়ে যায় যার কারনে আসলে পরিস্থিতিটা কেমন ছিল তা হয়তো বুজাতে পারিনি। প্রশাসনের কোন লোক যদি এ ঘটনাটা দেখে থাকেন তাহলে তাদেরকে অনুরোধ করবে দয়া করে ফতুল্লা লঞ্চ ঘাটের ইজারদারের হাত থেকে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতো স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নিন। সেখানে টোলের তালিকা লাগাতে বলুন। এভাবেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অপমান হচ্ছে দেখার কি কেউ নাই। #নিরাপত্তার স্বার্থে আমার অন্য এক আত্মীয়র আইডি দিয়ে পোস্ট দিলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!