মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রেলপথ?

মো. মনির হোসেন: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় মার্চ ২০২০,তবে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রথম দফায় বিধিনিষেধের কারণে গত ২০২০, ২৫ মার্চ থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়। দীর্ঘদিন একটানা বন্ধ থাকার পর গত বছরের ৩১ মে আবার সিমিত আকারে (অর্ধেক) ট্রেন চালু হয়, এখন পর্যন্ত সেখানেই আছে।
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা’ রেলপথ ছিল রেল ইতিহাসে অন্যতম। স্থাপিত হয়েছিল ১৮৮৫ সালের ৪ জানুয়ারি। ১৪.৯৮ কিলোমিটার ওই পথই ছিল রেলের স্বর্ণযুগ। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় ঐতিহ্যের এ রেলপথ এখন রূপকথায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৩৭ বছর আগে এ পথটি উদ্বোধন হলেও যুগে যুগে শুধু ধ্বংসই হয়েছে। শুরুতে লাইন, স্টেশনে আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকলেও এখন তলানিতে ঠেকেছে। নামমাত্র ট্রেন চলছে-সেবা নেই বললেই চলে। চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে চালানোর কারণে একটু উনিশ-বিশ হলেই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। মারা যাচ্ছে যাত্রী ও পথচারী। স্বাধীনতার পর থেকে রেলসেবা কমতে থাকে। চলমান রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়তে থাকে ঝুঁকি। বর্তমান সরকারের এক যুগে রেল উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন এলেও এ পথে এখনো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হয়নি।
স্বাধীনতার পরও এ পথে উন্নত সেবা আর নিরাপত্তা নিয়ে ট্রেন চলাচল করছিল। ৮০ দশকের পর থেকেই হারাতে থাকে এর ঐতিহ্য। ক্ষয় হতে থাকে লাইন, বিলুপ্ত হতে থাকে লাইনের যন্ত্রাংশ। জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে স্টেশনগুলো। এ পথে রেলের সবচেয়ে জরাজীর্ণ ট্রেনগুলো ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত কয়েক বছর এ পথে ‘ডেমু’ ট্রেন চালানো হয়েছিল। ডেমুকে ইতোমধ্যে খোদ রেলওয়ে কর্মকর্তারাই ‘গলার কাঁটা’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। নেই টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা। একদিন চললে দুদিন নষ্ট থাকে। অথচ অল্প দূরত্বের এ রেলপথেই সবচেয়ে বেশি যাত্রী চলাচল করে। চাহিদা রয়েছে বর্তমানে যে পরিমাণ যাত্রী চলাচল করে তার চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি। চলমান লাইন সংস্কার এবং ২য় ও ৩য় লাইন স্থাপন হলে উল্লেখিত সময়ে প্রায় ৯০ জোড়া ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীতের উদ্যোগ নিয়েও কাজটি সম্পন্ন করতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মাত্র দশমিক ৫১ একর বা ৩১ কাঠা জমি রেলপথটি ডাবল লাইন করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমিটি রেলওয়েরই অধিগ্রহণ করা ছিল। এখন বেহাত হয়ে চলে গেছে ব্যক্তি মালিকানায়। সেই জমি অধিগ্রহণের টাকার সংস্থান করতে না পেরে চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জের দুই কিলোমিটার অংশ বাদ রেখেই ডাবল লাইন করা হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা ট্রেনের এক যাত্রী জানান, নারায়ণগঞ্জের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা নিয়ন্ত্রণ করেন পরিবহন সেক্টর, তাই ট্রেন যাতে পুরোপুরি না চলে সেদিকে তার হাত আছে, এক সময় দেখা যাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রেলপথ। পরিবহন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই তার মূল উদ্দেশ্য।
তবে সংশ্লিষ্টদের দাবী রেলপথটি পুরো ডাবল লাইন না হলে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুফল আসবে না বলে মনে করছেন তারা, পাশাপাশি অর্ধেক ট্রেন থেকে পুরোদমে ট্রেন চালু না হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না।
নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!