শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন

বহুমুখী প্রতারক প্রদীব গ্রেফতার হলেও অধরা রেহেনা-জহির

আলোকিত নারায়ণগঞ্জঃ র‌্যাব-১১ কতৃক গ্রেফতারকৃত বহুমুখী প্রতারক প্রদীব বর্মনের অন্যতম সহোযোগি কথিত মানবাধিকার সংগঠন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার নামক সংগঠেনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আক্তার রেহেনার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। ফেনসিডিল বিক্রির মাধ্যমে অন্ধকার জগতে হাতে খড়ি রেহানা আক্তার সময়ের পরিবর্তনে খোলস পাল্টে মানবাধিকার কর্মী সেজে মানব পাচার,বিচার শালিসীর নামে অর্থ আত্মসাৎ,ভূমী দস্যুতা,ব্ল্যাক মেইলিং সহ নামা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে সক্রিয় রয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বর্তমান সময়ে রেহানা আক্তারের এ সকল অপকর্মের দোসর হলো তার বয় ফেন্ড্র ও একই সংগঠনের জহিরুল ইসলাম নামক আর এক ধূরন্দর প্রতারক।

তথ্য মতে,ফতুল্লার সস্তাপুরের মৃত সুলতান মিয়ার কন্যা ফেরদৌসী আক্তার রেহানা।বড় ভাই শফি এলাকায় রিক্সা চোর শফি ওরফে চোরা শফি নামে পরিচিত। অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া রেহানা আক্তার কিশোরী বয়স থেকেই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরে।ফেনসিডিল ব্যবসা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় রেহানা।তৎকালীন নারায়নগঞ্জ বারের প্রভাবশালী এডভোকেট মজিদ খন্দকার রেহানার হয়ে ফেনসিডিল মামলায় লড়েন এবং রেহানা কে জামিনে মুক্ত করেন।পরবর্তীতে মজিদ খন্দকারের অফিসে কাজ নেয় রেহানা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়নগঞ্জ বারের সিনিয়র এক আইনজীবী জানান,নারায়নগঞ্জ বারের এক আইনজীবীর সাথে আপত্তিকরবস্থায় ঐ আইনজীবীর স্ত্রী হাতে নাতে ধরে ফেলে এবং রেহানাকে প্রকাশ্যে জুতা পেটা করেন।যা অনেকেই সেদিন দেখেছেন।এরপর থেকে নারায়নগঞ্জ আদালত পাড়ায় রেহানাকে নিষিদ্ধ করা হয়।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে,রেহানা একাধিক স্বামীর অধিকারী।তথ্য মতে,ফেরদৌসি আক্তার রেহানার প্রথম স্বামীর নাম হাকিম। সে বর্তমানে কুতুবআইল রিক্সার মিস্ত্রীর কাজ করেন।সে সংসার ছেড় পরবর্তীতে বিয়ে করেন ঈমান আলী নামক এক ব্যক্তিকে।সে মধ্যসস্তাপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তার সাথে ফেনসিডিলের ব্যবসা করেন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে মাদক মামলায় জেলখাটেন।রেহানার এ সংসারে একটি পুত্র সন্তান আছে। পরে গলাচিপার আরমান নামে এক ছেলেকে বিয়ে করেন। তার সংসারে এক মেয়ে আছে।বিদেশেও থেকেছে বেশ কয়েক বছর। তার স্থায়ী কোন ব্যবসা নেই। দেহ ব্যবসা আর ব্লাকমেইলিং করে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। কোতালেরবাগ এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বাড়ি, সস্তাপুর এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বাড়ি, সোনারগাও ও রূপগঞ্জে কয়েকটি প্লট কিনেছেন।  বর্তমানে কুমিল্লার এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া একই সংগঠনের ফতুল্লার তক্কার মাঠের জহিরুল ইসলাম নামক অপর এক প্রতারকের সাথে তার রয়েছ গভীর সম্পর্ক। প্রায় সময় তারা দুজন লং ড্রাইভে যায় এমনকি বিভিন্ন কটেজেও রাত্রী যাপন করে থাকে বলে জানা যায়। বয়ফ্রেন্ড জহিরুল ইসলামকে নিয়েই প্রতারণা ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষদের হয়রানী করে আসছে বলে অভিযাগ রয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শহর জুড়ে দাবড়িয়ে বেড়াতো তারা দুইজন। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি জেলাতে এই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশেনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছিলেন সাইদা আক্তার শিউলি নামের এক নারী। ঐ মামলার ২নং আসামী হলেন ফেরদৌসী আক্তার রেহানা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফসেবুকে লাইভে এসে সাঈদা আক্তার ওরফে সায়েদা শিউলি নামক এক নারীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা কাহিনী সাজিয়ে কূৎসা রটানোর অভিযোগে কাউন্সলির মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ ফেরদৌসী আক্তার রেহানার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফতুল্লা মডলে থানায় মামলা হয়েছিল।

অভিযোগে রয়েছে, সায়েদা শিউলিকে ফেরদৌসী আক্তার রেহানা ফেসবুকে লাইফে এসে অকথ্য ভাষায় মন্তব্য করে সম্মানহানি করেছেন। এমনকি মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিউলির বাড়িতে গিয়ে তার অনুপস্থিতিতে হয়রানি করেছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ফেরদৌসী আক্তার রেহানার বর্তমান বয়ফ্রেন্ড জহিরুল ইসলাম ছিলেন সায়েদা শিউলির সাবেক স্বামী। তাই খোরশেদ ও সায়েদা শিউলির বিষয় জানাজানি হলে সক্রিয় হয়ে উঠেন প্রতারক চক্রের মূলহোতা ফেরদৌসী আক্তার রেহানা। এদিকে, প্রদীব চন্দ্র বর্মণ ও আনিসুর রহমান গ্রেফতারের পর দ্রুত ফেরদৌসী আক্তার রেহানা ও জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!