বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

বেঈমান খ্যাতদের কারনে অস্তিত্ব সংকটে না’গঞ্জ বিএনপি!

বিশেষ প্রতিনিধিঃনারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে দলটির ভেতরে সুবিধাবাদী ও বেঈমান নেতারা গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। দলের এই দুর্দিনে এসব নেতাকর্মীদের না মাইনাস করা যাচ্ছে না তাদের দলে রাখা যাচ্ছে। দলের এসব নেতাকর্মীরা এক ধরনের ভাইরাসের মত কাজ করছে যা কিনা ধীরে ধীরে অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে দলটির দুর্দিনে দলের নেতাকর্মী মাইনাস করে দলের পাল্লা হালকা করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। একারণে দলের এসব সুবিধাবাদী ও বেঈমানরা দলের জন্য গলার কাটা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে খুব শিঘ্রই দলে এসব গলার কাঁটা অপসারণে পদক্ষেপ আসছে বলে দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটিতে ভাইরাসের মত বেঈমানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি পক্ষ বিএনপি দলে থেকেই বেঈমানী করছে। আরেকটি পক্ষ দল ত্যাগ করে ক্ষমতাসীনদের দলে ভিড় করেছেন। আর সুবিধাবাদীরা পরোক্ষভাবে দলের ক্ষতি করলেও মুখোশের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে আছেন। তবে এসব প্রকৃতির নেতাদের কারণে দলটির দুর্দশা কাটছে না। খুব শিঘ্রই দলটি ঘুরে দাড়ানোর মাধ্যমে দালালখ্যাতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে হাইকমান্ড থেকে জানানো হয়েছে। বিগত সময়গুলোতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের ডাকা জনসভা গুলোতে বিশাল মিছিল নিয়ে যোগদান করতে দেখা গেছে বিএনপি নেতা ও ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদকে। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বয়কট করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই নেতা। এরূপ নেতাদের জন্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলটি ভরাডুবির চিত্র দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ চার আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নৌকায় ভোট চাওয়ার অভিযোগে ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের জন্য ফতুল্লা থানা বিএনপির এক নম্বর সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করে।

জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে বিএনপি দলটির বেহাল দশা পরিষ্কার হতে থাকে। এসময় দলের মুখোশধারী সুবিধাবাদী ও বেঈমানদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। আর সেই মুখোশধারী বেঈমান সুবিধাবাদীরা দলের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার কলঙ্কময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এতে করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলটির ভরাডুবির চিত্র দেখা যায় সারাদেশে। সেই নির্বাচনে এ জেলার বিএনপির সুবিধাবাদী ও বেঈমান নেতাকর্মীরা দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধানের শীষের ভোটারদের মারধর করে ভোট প্রদানে বাধা দেয়। এছাড়া নির্বাচনী বছরে দলীয় কর্মসূচি এড়িয়ে চলা এসব নেতাদের কর্মকান্ডে সাংগঠনিক দিক দিয়ে দলটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোটার ও নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টি সহ বিএনপি দলীয় একাংশ নেতাকর্মীরা। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে জাপা ও আওয়ামীলীগের বিরোধীতার পাশাপাশি বিএনপি দলীয় একাংশ নেতাকর্মীরা ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের বিরোধীতা করেছেন। আর এসব ভোটার ও নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে বিতারিত করেছে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট ও সমর্থকদের উত্তম মধ্যম দিয়ে বের করে দিয়েছে জাপা ঘেঁষা বিএনপিরা। এছাড়া এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে জাপা ঘেঁষা বিএনপি অনেক নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীনদের সহায়তা করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধীতা করেছে। এমনকি তাদের মারধর পর্যন্ত করেছে। উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ সকল কেন্দ্রে গিয়ে এজেন্টদের এবং ভোটারদের বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে এই আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে অনেকটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বিএনপি দলটির একাংশ যারা আগে থেকেই জাপা ঘেঁষা নেতা হিসেবে পরিচিত তারা ধানের শীষের প্রার্থী এস এম আকরামকে বয়কট করে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা শুরু করে। এমনকি বন্দর সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠে আকরামের আয়োজনে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছে। সেই সমাবেশে ওইখানে করতে বাধা দেয়া মুকুল পন্থী ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ। যেকারণে আকরাম এর আগেও অভিযোগ করে বলেছে, মুকুল পন্থী বিএনপি নেতাদের উপর বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের সেই সমাবেশে কালাম ও মুকুল পন্থীরা অনুপস্থিত থাকায় তাদেরকে দল থেকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের ভরাডুবির চিত্র দেখা যায়। এ পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির একটি তদন্তকারী টিম কাজ করছে। সেই তদন্তকারী টিম সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের সাথে সমাঝোতা করেছিলেন। একই সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা আওয়ামীলীগের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনের সময় তাদের ভূমিকা ছিল নিস্ক্রিয়। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে কোন আসনেও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে জোড়ালোভাবে নির্বাচনে মাঠে নামেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!