মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

তিতাসের ৮ জনের নামে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার নির্দেশ

আলোকিত নারায়ণগঞ্জঃ ফতুল্লায় তল্লা মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৩৪ জন মৃত্যুর ঘটনায় তিতাস গ্যাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালত ২৯ জনের নামে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে এ নির্দেশ দেন। ১১ মার্চ এ নির্দেশ দেয়া হয়।

তিতাস গ্যাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন- তিতাস গ্যাস ফতুল্লা আঞ্চলিক অফিসের বরখাস্ত হওয়া ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (৪২), উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী (৩৪), সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া (৩৩), সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার (৩২), সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী (৫৬), সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী (৫৮), সাহায্যকারী হানিফ মিয়া (৪৮) ও কর্মচারী ইসমাইল প্রধান (৪৯)। সিআইডি গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেফতার করেছিল। ২১ সেপ্টেম্বর তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ ২৯ জনের নামে সিআইডির দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালত আমলে নিয়ে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তিতাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আগামী ২৯ এপ্রিল অভিযোগপত্র বিষয়ে শুনানি হবে।

এ বিষয়ে সিআইডি নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হারুন অর রশিদ বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলে অনুমোদন চেয়ে তাগিদপত্র দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজের সময় ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় অবস্থিত বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে ৩৭ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে শিশুসহ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে যায় এবং থাই জানালার গ্লাস উড়ে যায়।

ওই সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুর গফুর বলেছিলেন, গ্যাস লিকেজ মেরামতের জন্য যোগাযোগ করলে তিতাস গ্যাসের লোকজন তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশন পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন।

১৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাসের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তিতাস গ্যাসের লিকেজ, বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি, মসজিদ কমিটির অবহেলাসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুর গফুরসহ ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত তিতাস গ্যাসের আটজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হওয়ায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে উল্লেখ করে সিআইডি।

অভিযোগপত্রে মসজিদ পরিচালনায় কমিটির অবহেলা-অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা, কারিগরি দিক বিবেচনা না করে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ ঝুঁকিপূর্ণভাবে লাগানো, গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েও মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মিটার রিডার কালেক্টর ও ইলেকট্রিশিয়ানদের মসজিদে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়াসহ তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, গ্যাসলাইন সঠিকভাবে তদারক না করা, পাইপের লিকেজ মেরামত না করা, গ্যাসলাইন ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন এবং স্থানান্তর না করার কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৩৪ মুসল্লির মৃত্যু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!