মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

রণজিৎ মোদক এর একগুচ্ছ কবিতা

রণজিৎ মোদক এর একগুচ্ছ কবিতা
রণজিৎ মোদক

স্মৃতির আয়নায়

আজকাল বেশি বেশি কেন জানি
পেছনের সুখ দুঃখগুলো সামনের পথ আগলিয়ে,
বুকের ভিতর পাথর ভাঙার গান গায়।
চোখ বন্ধ করে
বুড়িগঙ্গার তীর ভাঙার শব্দে জেগে উঠি
ভিজে যায় হরিণ চোখের পাতা।
নদীর প্রেমে বিশ্বাস কি
কাশবনের সৌন্দর্য কতোক্ষন
পাখির গান গোলাপের গন্ধ জলসা ঘরে নূপুর ধ্বনি
চাঁদের আলো যেমন ক্ষণস্থায়ী
সেই দিন চাঁদের গ্রহণ লেগেছিলো
আমি তাকাইনি একটুও
আমি তখন আষট্টি হাজার গ্রামের ছবি এঁকে
আমার আপন সত্তাকে খুঁজেছি,
খুঁজেছি একাত্তরে হারিয়ে যাওয়া
মুখগুলো স্মৃতির আয়নায়
একান্ত আনমনে
দীর্ঘক্ষণ।


যদি অভিমানী হও

তুমি বেমালুম সব ভুলে গেলে
অথচ আমি বার বার চেষ্টা করেও
তোমাকে ভুলতে পারছি না।
আমার এই অক্ষমতা অপরাধটুকু
তুমি ক্ষমা করতে পারছো না
তোমার কাছে আমার অবুঝ প্রেমের
আজ কোনো মূল্যই নেই।
তারুণ্যে নিষিক্ত প্রেম, নিঃশব্দ পদ সঞ্চারে
অবহেলা অনাদর আর ঘৃণায় বিক্ষত
বক্ররেখায় প্রলম্বিত নদী
যদি অভিমানী হও তবে
সরল রেখার নৈসর্গিক বিশ্বস্ততায়
ফিরিয়ে দাও প্রেম।


নক্ষত্রে নক্ষত্রে

নক্ষত্রে হাত ধরে নরম ঘাসের বুকে
ঘুমিয়ে পড়বো নিশ্চয়
অচেনা বন্ধু শুনাবে কানে মিলনের গান
পরিচিত ধান ক্ষেত হাত ইশারায়
অশ্বথ পাতা দুলবে আমি তখন নীলাকাশে
হাত মিলাবো অনন্তের ভালবাসায়।
নির্জন সন্ধ্যার আকাশে সুদর্শন উড়বে
লেবু বনে খুঁজবে জোনাকীরা প্রদীপ জ্বেলে
তখন চিতার ছাইয়ে মিশে যাবে হৃদয়ের সমস্ত ভাষা
জলস্থলে আকাশে বাতাসে পঞ্চভূতে
আমি রয়ে যাবো অন্য রূপে
নক্ষত্রে নক্ষত্রে বেড়াবো অশরীরি আমি
ডাগর চোখে শ্রাবণ মেঘে
তুমি চেয়ে থেকো শূন্য আকাশ পানে
দীর্ঘশ্বাস চেপে প্রিয়তমা বাংলাদেশ।


তুমি সুখে থেকো

নিজকে আর চাইনে প্রকাশ করতে
তোমাদের প্রেমের সভায়
বিশাল এ অনুষ্ঠানে।
ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর এ বাণী লিখে যাই
আমিও ভালোবেসেছিলাম,
এ বিরাট পৃথিবীকে অন্তর দিয়ে
অন্তর পুড়ে গেছে যজ্ঞের আগুনে
যাকে যতো বেশি আপন ভেবেছি
সেই বেশি আঘাত দিয়েছে বার বার
হে আমার/(প্রিয়) দুঃখদাতা বন্ধু
আমার এ পোড়া বুক নিয়ে আমি
আশির্বাদ করি
তুমি সুখে থাকো।


অভিন্ন

তোমাকে নিয়ে যতই ভিন্ন চিন্তা করি
আমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠি
তোমাকে ছাড়া আমার অস্তিত্ব কল্পনা
একরাশ বেদনার সমষ্টি।

অভিমানের প্রেক্ষাপটে
কখনো তোমাকে কখনো নিজেকে কষ্ট দিয়ে
সমগ্র ভূখন্ডে আগুনের প্রজ্জ্বলিত শিখার
বিচ্ছুরিত দহণ জ্বালা অনুভব করি।
মেঘে মেঘে যতোই অভিমান হোক
আসলে অভিন্ন তুমি আর আমি।


উত্তরাকাশে এতো মেঘ

দূরে ছিলে সেই তো ভালো ছিল
দারুণ অভিমানী শীতের শিশির
ধীরে মটরলতা বনে হারিয়ে যেতে সময়ের সাথে

বিলীন হতো বৃষ্টির আশা
মরুভূমি হয়ে যেতো পৃথিবীর হৃদয়
প্রেমহীন নিষ্ঠুর কারবালা।

উত্তরাকাশে এতো মেঘ হওয়া সত্ত্বেও
এলো না ঝড়, ভিজলো না মাটি
রৌদ্র চৌচির চাতক বুক।
ভুলে যাচ্ছো আজ নানা অজুহাতে
প্রকৃতির বৈরিতার পর্দা সামনে রেখে
কেন যে পারি না তোমার মতো নিষ্ঠুর হতে
কেন যে পারি না সব স্তুতি ভুলে যেতে
কিসের পরশ দিয়েছিলে তুমি
সাগরের শীতলতা মেখে?
আজ কেন এতো নিষ্ঠুর হলে
তুমি কি শুননা এ পৃথিবীর ক্রন্দন?

‘মেঘ দে, পানি দে’ চিৎকার
সত্যি তুমি নিষ্ঠুর হয়ে গেছো
পদ্মার বালুচরের মতো
ফারাক্কার মতো।


বৈরী বাতাস

দু’দিন আগেও ওরা হাসি-খুশি ছিলো
উজ্জ্বল চঞ্চল ছিলো ওদের চোখের পাতা
কুঁড়ে ঘরে ছিলো ওদের স্বপ্নের ঢেউ
মাঠে মাঠে ছিল প্রত্যাশার ফসল
কিন্তু ভাগ্যের বৈরি বাতাস
নিমিষেই এনে দিলো এক রাশ কান্না।
কালবৈশাখীর দারুণ ছোঁবল
বিধ্বস্ত নিশ্চিহ্ন লোকালয়
হাহাকারে মানিকগঞ্জের সমস্ত আকাশ
‘আমার স্বামীকে এন দাও আমি মা হতে চাই’
আশালতার, ভালোবাসার স্বামী কোথায়?
কোথায় তাদের ঘর?
স্বজন হারার বেদনা বুকে
খুঁজে লাশ আর লাশ
লাশের গন্ধে নেমে আসে সাটুরিয়ার শকুন
কি নিষ্ঠুর দৃশ্য গৃহহীন অসহায় অনাহারী মানুষের চিৎকার
হেয়ালী প্রকৃতির নিষ্ঠুর শিকার অসহায় মানুষ
এখানে বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস জীবন কেড়ে নেয়
তবু জীবন এগিয়ে চলে জীবনের তাগিদে
বিধ্বস্ত লোকালয়ে খোঁজে জীবনের নিশ্চয়তা
পরাজয় মানে না জীবন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed BY N Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!