বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০১ অপরাহ্ন

সাইনবোর্ড এলাকায় তীব্র যানজট, দূর্ভোগে নারায়ণগঞ্জবাসী

মোঃ মনির হোসেন: বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা  মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায়, জিরো পয়েন্ট মোড়ে সকাল,সন্ধ্যা, গভীর রাতেও যানজট লেগেই থাকে। আর এই যানজটের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-সিলেটাগামী যাত্রীরা ।
ওই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও কয়েক শ’ শিক্ষক, চাকুরীজীবী ও ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৮.১৫ কিলোমিটার। এটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক নামে পরিচিত। সড়কটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই সড়কেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিভিল সার্জন অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা কারাগার, গণপূর্ত অধিদফতর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।
বর্তমানে তীব্র যানজটের মুখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে প্রতিনিয়ত যাতায়াতগামী যাত্রী ও গণপরিবহন। ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাফিক জ্যামে যানবাহন এবং যাত্রীরা অচল হয়ে বসে থাকছে সাইনবোর্ড থেকে জালকুড়ি পর্যন্ত। নষ্ট হচ্ছে সময় এবং ব্যাহত হচ্ছে মানুষের সাধারণ জীবন ধারা দূর্ভোগে নারায়ণগঞ্জবাসী । তবুও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশ যখন সাইনবোর্ডের হাইওয়ে এবং জেলা উভয় সড়কের দায়িত্বে ছিল, তখনও যানজট ছিলো। কিন্তু তখন যাত্রীদের এতোটা ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়নি। জেলা ট্রাফিক বিভাগ সব সময়ই উভয় সড়কগুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে যানযট মুক্ত এবং চলাচল উপযোগী করে রাখতো। কিন্তু মহাসড়কের দায়িত্ব হাইওয়ে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর থেকে লক্ষ্যনীয় ভাবে দেখা যাচ্ছে অনিয়ম এবং বিশৃঙ্খলা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের আশা-যাওয়ার যানজট যেমন দিনে দিনে বাড়ছে তেমনি তীব্র যানজটে যাত্রীদের অসহায়ত্বও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকারি তোলারাম কলেজে চাকুরী করেন এমন কয়েকজন শিক্ষক বলেন, মাত্র করোনা মহামারির রেশ কমেছে দেশ থেকে কিছুদিন হলো স্কুল-কলেজ খুলেছে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকাতে যানজট, নষ্ট হচ্ছে আমাদের মূল্যবান সময়। আমরা যানজটের কারণে সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না। আমাদের শিক্ষার্থীরাও এই যানজটের কারণে অনেকসময় ক্লাসে সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। সমস্যাটি দ্রæত সমাধান হলে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
এক বাস ড্রাইভার সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। এতে ক্ষতি সাধণ হচ্ছে বাস কোম্পানি এবং বাস চালকদের। আরেকজন বাস ড্রাইভার বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাওয়া আসার সময় শুধু মাত্র সাইনবোর্ড এলাকা পাড় হতেই কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। কিন্তু সাইনবোর্ডের জ্যামের হিসেব বাদ দিলে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসা-যাওয়াতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বললে তারা যানযটে অতিষ্ট হয়ে বলেন, প্রতিদিন এক জায়গায় দীর্ঘ সময় যানযট লেগে থাকার কারনে কাজে সঠিক সময় পৌঁছানো খুব কষ্টকর হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় রাতের ১২ টায় ও নারায়ণগঞ্জে চাষাড়ায় প্রবেশ করতেও সাইনবোর্ড এলাকায় ঘন্টা খানেক জামে বসে থাকতে হয়। তবে বর্তমানে সাইনবোর্ড এলাকার সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করে হাইওয়ে ট্রাফিক বিভাগ।
অন্যদিকে হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশের টিআই প্রশাসন  বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের আট কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করে। আর এই ইজিবাইক পাড় করা হাইওয়ে পুলিশের মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমাদের মূখ্য উদ্দেশ্য হল জরুরি যানবাহন গুলো পাড় করা। যে কারনে আমরা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের গাড়ি গুলো কম টানি এবং হাইওয়ের সড়ককে জ্যামমুক্ত রাখার জন্য সবসময় চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ ট্যাফিক প্রশাসনকে বার বার অনুরোধ করেছি ইজিবাইক কমানোর জন্য। যদি তারা ইজিবাইক কমাতে না পারে তাহলে হাইওয়ের মত নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডকে যানজট মুক্ত রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর এই ট্র্যাফিক যানজটের দায়ভার তাহলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশকে নিতে হবে। আর এই অবৈধ বাস স্ট্যান্ড এর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সরেজমিনে, পরিদর্শন করে দেখা যায়, অনাবিল, মৌমিতা, লব্বাইক, লাভলী, ঠিকানা, বিভিন্ন নামের গাড়ী সেখানে অবৈধভাবে স্ট্যান্ড করে যাত্রী উঠা-নামা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!