বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

সেই পুরোনো খেলা! নাজিমউদ্দিন মাহমুদ থেকে তৈমূর

মো.মনির হোসেনঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আইভী নৌকার প্রার্থী। সবাই নৌকার বিজয়ে কাজ করবেন এটাই আমি চাই। গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভা চলাকালে ভিডিও কলে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশ দেন।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, নাসিক নির্বাচনে আবারো সেই পুরোনো খেলা শুরু হয়েছে, পার্থক্য শুধু এবার পর্দার আড়ালে খেলছে খেলোয়াড়রা, তবে খেলা কিন্তু হচ্ছে সেই একদিক থেকেই, আগেরবার তারা নাজিমউদ্দিন মাহমুদকে আবিস্কার করেছিলেন, এবার তারা তৈমূর আলম খন্দকারকে আবিস্কার করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর আইভী বিরোধী কিছু আওয়ামীলীগ নেতাদের অভিমত আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে আইভীর পক্ষে মাঠে আছি এবং থাকব। আমরা রাত-দিন এক করে ভোটারদের মন জয় করে নৌকা বিজয়ী করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেব। আইভী এখন প্রধানমন্ত্রীর আমানত আমরা সে আমানত রক্ষায় কাজ করে যাব। বিগত দিনের যত মান অভিমান আছে তা আমরা এখন আর মনে রাখতে চাই না।

তবে এ প্রসংগে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা বলেছেন, বছরের পর বছর যারা নিজ দলে থেকেও আইভীর বিপক্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তারাও আইভী পক্ষে মাঠে রয়েছেন। তবে এ নামা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে এ কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। যারা দীর্ঘদিন আইভীর বিপক্ষে ছিলেন তারা এখন আইভীর পক্ষে নেমে কতটুকু কাজ করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে মনে করেন তারা মাঠে থাকলে আইভীর ভোট কতটা বাড়বে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এমনতো হতে পারে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কারণে লোক দেখানো মাঠে নেমেছেন। এ জন্য আইভীকে বুঝে শুনে এগোতে হবে।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ পৌর সভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আলী আহম্মদ চুনকা। যিনি দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে হতে পেরেছিলেন সকলেরই ‘চুনকা ভাই’। সৎ, নিষ্ঠাবান, একজন আর্দশবাদী নেতা ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি মানুষের ভালোবাসায় ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয়বারের মত পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। এদিকে প্রথম নির্বাচন থেকেই আলী আহম্মদ চুনকা একটি গোষ্ঠির বিরাগভাজন হোন। তিনি ওই গোস্ঠির সাথে চ্যালেঞ্জ করেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে চুনকার বিরোধীতা আর থেমে থাকেনি। যা ১৯৮৪ সালে প্রত্যক্ষ করেছিলেন শহরবাসী।

সূত্র বলছে, চুনকাকে ঠেকাতে ওই পক্ষ নানা ইস্যু সামনে এনে তার বিরোধীতায় আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামেন। ওই নির্বাচনে চুনকার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় নাজিম উদ্দিন মাহমুদকে। পরিবারের চরম বিরোধীতা আর নানা কৌশলের কাছে হেরে যান ‘চুনকা ভাই’। এই বছরেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে চুনকা ঠেকাতে কী কী খেলা হয়েছিলো তা শহরবাসী জানেন।

১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর শহরজুড়ে বাড়তে থাকে সন্ত্রাসী, একের পর এক জন্ম নিতে শুরু করে সন্ত্রাসী! সূত্র বলছে, নাজিম উদ্দিন মাহমুদ ব্যক্তি হিসেবে ভালো হলেও তিনি শহর উন্নয়নের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেননি। যার কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই শহরবাসী ছিলেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। যার খড়া কাটে আলী আহম্মদ চুনকা কন্যা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাত ধরে, ২০০৩ সালে। এই সময় বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায়। পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হোন চুনকা কন্যা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন বিএনপি মনোনীত নূর ইসলাম সরদার। তবে, মানুষের সীমাহীন ভালোবাসায়, দলমত নির্বিশেষে সকলেই নির্বাচিত করেন আইভীকে। এরপর থেকেই এই শহরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে।

সূত্র বলছে, ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পৌরসভার মাধ্যমে শহরের নানামুখি উন্নয়নে স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন আইভী। যার ফলে ২০১১ সালে তিনটি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রভাবশালী শামীম ওসমানের বিপরীতে বিপুল ভোটে তাকে জয়ী করেন নগরবাসী। তিনি হোন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র। সেই থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও শহরে উন্নয়ন করেন। আইভীর উন্নয়নের প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠেন নগরবাসী। তাদের আকণ্ঠ সমর্থনে সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি আবারও মেয়র নির্বাচিত হোন ২০১৬ সালে। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াতকে হারিয়ে নির্বাচিত হোন। এই মেয়াদে তিনি নির্বাচিত হয়ে এই শহরের আমূল পরিবর্তন আনেন উন্নয়নের মধ্য দিয়ে। এদিকে ১৯৮৪ সালের মত আলী আহাম্মদ চুনকার জয়ের রথের মত এবার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ের রথও থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে এড. তৈমূর ও নাছড়বান্দা। সে ইতিমধ্যে সবাইকে একত্রিক করতে সফল হচ্ছে। এড. তৈমূর স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী মনে করেই তৈমূরের পক্ষে একজোট হয়ে মাঠে নেমে গেছেন, আর এ জন্য নাসিকের নির্বাচন যেন আওয়ামীলীগ-বিএনপির লড়াই হচ্ছে এমন পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন যাবত নির্বাচনের বাইরে ছিলেন। তারা নির্বাচনের স্বাদ গ্রহণ থেকেও বঞ্চিত ছিল তাই তারা এবারের নাসিক নির্বাচনে তৈমূর প্রার্থী হওয়ায় তাদের মধ্যে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কোন্দলকে তাদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে মনে করছে তারা।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, পর্দার আড়ালে থেকে একটি মহল সেই পরোনো খেলায় লিপ্ত হয়েছে, আগে তারা নাজিমউদ্দিন মাহমুদকে আবিস্কার করেছিলেন, এবার তারা তৈমূর আলম খন্দকারকে আবিস্কার করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মতামত লিখুন........


© All rights reserved © 2018 Alokitonarayanganj24.net
Design & Developed by M Host BD
error: দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহনযোগ্য নয় !!!