মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদ সন্তান ও স্বামীর জন্য কেবল পার্থিব সম্পত্তি নয়, বরং তা শরিয়তের এক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আমানত। পবিত্র ইসলাম ধর্মে কার মিরাস বা উত্তরাধিকার কতটুকু হবে, তা মানুষের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বয়ং পবিত্র কুরআনে তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। মায়ের ইন্তেকালের পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি কীভাবে সঠিক ও ইসলামি শরিয়াহ নির্দেশিত উপায়ে স্বামী, মেয়ে এবং অন্যান্য ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করতে হবে, নিচে তা তুলে ধরা হলো—
১. সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বশর্ত (বাধ্যতামূলক ৩টি কাজ)
মায়ের ত্যাজ্য সম্পত্তি ওয়ারিশদের মাঝে ভাগ করার পূর্বে তিনটি কাজ ক্রমানুসারে সম্পন্ন করা প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক—
২. মেয়ে ও স্বামীর প্রাপ্ত অংশের বিবরণ
উপরে উল্লেখিত সব দেনা ও খরচ মিটিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তিতে স্বামী ও মেয়েদের নির্ধারিত অংশ নিচের নিয়ম অনুযায়ী বণ্টিত হবে—
স্বামীর প্রাপ্ত অংশ
স্ত্রী মারা যাওয়ার পর যদি তাঁর কোনো সন্তান (ছেলে বা মেয়ে) জীবিত থাকে, তবে স্বামী মোট ত্যাজ্য সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪ অংশ বা ২৫%) পাবেন।
মেয়ের প্রাপ্ত অংশ
একমাত্র মেয়ে হলে: মৃত নারীর যদি শুধু একটি মেয়ে থাকে (এবং কোনো ছেলে না থাকে), তবে সে মোট সম্পত্তির অর্ধেক (১/২ অংশ বা ৫০%) পাবে।
একাধিক মেয়ে হলে: যদি দুই বা ততধিক মেয়ে থাকে (এবং কোনো ছেলে না থাকে), তবে তারা সবাই মিলে সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩ অংশ বা ৬৬.৬৬%) পাবে এবং তা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেবে।
৩. অবশিষ্টাংশ বা বাকি সম্পত্তির হিসাব
স্বামী (১/৪ বা ২৫%) এবং একমাত্র মেয়ে (১/২ বা ৫০%) তাঁদের নির্ধারিত অংশ পাওয়ার পর মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪ অংশ বা ২৫%) অবশিষ্ট থাকে। এই বাকি সম্পত্তি ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।
৪. কুরআন ও হাদিসের প্রামাণ্য দলিল
কুরআন মাজীদের দলিল: মেয়ের অংশের ক্ষেত্রে—
وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ
‘আর যদি (সন্তান) কেবল একটিই মেয়ে হয়, তবে সে (মোট সম্পত্তির) অর্ধেক পাবে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১১)
স্বামীর অংশের ক্ষেত্রে—
فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَقْنَ
‘অতঃপর যদি তাদের (স্ত্রীদের) কোনো সন্তান থাকে, তবে তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ (১/৪) তোমাদের (স্বামীদের)।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১২)
মায়ের ছেড়ে যাওয়া সম্পদ নিছক দুনিয়াবি কোনো সম্পদ নয়, বরং এর সঠিক বণ্টন পরকালের জবাবদিহিতার সাথে জড়িত। ইসলামে নির্ধারিত পন্থায় কারও অধিকার ক্ষুণ্ন না করে নিখুঁতভাবে এই মিরাস বন্টন করা প্রতিটি ইমানদারের শরিয়তি দায়িত্ব। আল্লাহর দেওয়া এই ফারায়েজের সীমারেখা মেনে চললে পরিবারে শান্তি, শৃঙ্খলা ও বরকত বজায় থাকে।