• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
  • Bangla Converter
সংবাদ শিরোনাম
হঠাৎ বিদ্যুৎহীন ঢাকা-চট্টগ্রামের একাংশ ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রত্যাহার দাবি সুজনের ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও এক জোড়া ট্রেন চালু ফতুল্লায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রী-সন্তান হত্যা, ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে! ফতুল্লায় পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধুকে খুন, টাকা, স্বর্নালংকার লুট ফতুল্লায় ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তৃতীয় বারের মত পুরস্কৃত হলেন ডিএসবি ফতুল্লা জোনের হুমায়ুন ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক স্বর্ণের দাম কমল, অপরিবর্তিত রুপার দাম

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রত্যাহার দাবি সুজনের

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক / ২৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রত্যাহার দাবি করেছে নাগরিক সংগঠন সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

এক বিবৃতি চেয়ারপার্সন বিচারপতি এম এ মতিন ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেনঃ আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, গত ২৬ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, “যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।” আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বললেও সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা তুলে ধরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত। আমরা মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার পরিপন্থি এবং নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

আমরা নাগরিক সংগঠন ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’ এর পক্ষ থেকে আইজিপির এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেই তাঁকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার অধিকার রাষ্ট্র বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই। সরকারের অনুমতি কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনসম্মত করতে পারে না। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব; তবে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন, যথাযথ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সত্ত্বেও একজন পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্যের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আমরা মনে করি, অতীতে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে গভীর ক্ষত ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করে— এমন বক্তব্য রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আত্মরক্ষার আইনসম্মত অধিকার রক্ষা করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু এসব উদ্বেগের সমাধান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা সামনে আনা নয়; বরং পেশাদারিত্ব, কার্যকর অপরাধ প্রতিরোধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

আমরা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিন এবং তাঁর বক্তব্যের সাংবিধানিক ও আইনগত তাৎপর্য পর্যালোচনা করুন। একই সঙ্গে আমরা আইজিপিকে তাঁর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। বক্তব্যটির জন্য তাঁর প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো পর্যায়ে বিচারবহির্ভূত বলপ্রয়োগের সুযোগ বা বার্তা তৈরি না হয়।

আমরা বিশ্বাস করি, নাগরিকের জীবন, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অপরাধ দমন করতে হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে নয়। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার, মানবাধিকারসম্মত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..