নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুবাই ফেরত এক প্রবাসী যুবককে অপহরণ, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ (শোকজ) জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সাথে ওসির এমন রহস্যজনক ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলাটি সরাসরি এজহার (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ফতুল্লা আমলী আদালত) আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন। (সি.আর মামলা নং- ৯৯৫/২৬)।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার চর মুক্তারপুর এলাকার সাহিদা বেগমের ছেলে বাবু (২৫) দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার তিনি দুবাই থেকে দেশে ফেরার পথে রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর ব্রিজের পাশে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে প্রবাসীর গাড়ি গতিরোধ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে প্রবাসী বাবুকে অপহরণ করে গোগনগরের লাল চানের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আকরাম প্রধান সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন তাদের আস্তানায় আটকে রাখে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রবাসীর কাছে থাকা নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ভিকটিমকে ছাড়তে আরও দশ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ২৪ মে দুপুর ১২টায় ফতুল্লা মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন—ভিকটিম বাবুকে আসামিরা আদৌ অপহরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে ৩ ঘণ্টার মধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার জন্য।
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম তাঁর লিখিত আদেশে উল্লেখ করেন, “এমতাবস্থায়, কেন ০৩ (তিন) ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিম বাবুর অপহরণ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয় নাই, তৎমর্মে কারণ দর্শানোর জন্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ফতুল্লা থানা-নারায়ণগঞ্জকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
কিন্তু আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ফতুল্লা ওসির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি, এমনকি তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আদালতকে কিছু জানানো হয়নি। ওসির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও রহস্যজনক আচরণে চরম ক্ষুব্ধ হন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে আদালতের এমন নজিরবিহীন ও কড়া অ্যাকশনের পর চাপের মুখে পড়ে পুলিশ তড়িঘড়ি করে অপহৃত প্রবাসী বাবুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে ভিকটিম উদ্ধার হলেও আদালতের নির্দেশ অমান্য করা এবং স্পর্শকাতর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড় চলছে। আদালত দরখাস্তটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না, আমার কাছে কোনো আদেশ এসে পৌছায় নি।
এই ঘটনা কেউ গ্রেফতার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালত বলেছে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে, গ্রেফতার করতে তো বলেনি।