• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • Bangla Converter
সংবাদ শিরোনাম
টানা বৃষ্টিতে রেইনকোট পরে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় খাবার নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে মানবিক ডিসি জাহিদ “আর্জেন্টিনা-মিশর” ম্যাচে নেওয়া দুটি সিদ্ধান্তই ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহারই সম্ভাবনার চাবিকাঠি আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে: মেসি ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাস গড়লেন মেসি নারায়ণগঞ্জের ভূমি সেক্টরে ‘জিরো টলারেন্স’নীতিতে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে: ডিসি রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থেকে ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার সিটিতে যুক্ত হচ্ছে সম্পূর্ণ কুতুবপুর, আংশিক ফতুল্লা-কাশীপুর-এনায়েতনগর ফতুল্লা মডেল থানা পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ’ সবার আগে বাংলাদেশ’প্রতিপাদ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহারই সম্ভাবনার চাবিকাঠি

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক / ২৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মস্তিষ্ক। আর এই মস্তিষ্কের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে—যত বেশি একে ব্যবহার করা হয়, তত বেশি এটি শাণিত ও কার্যকর হয়ে ওঠে। নতুন কিছু শেখা, জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজা, কল্পনা করা এবং সৃজনশীল কাজে নিজেকে যুক্ত রাখার মধ্য দিয়েই মস্তিষ্ক তার পূর্ণ দক্ষতা প্রকাশ করে।

অথচ আমরা প্রায়ই অজান্তেই নিজেদের সীমাবদ্ধ করে ফেলি। “এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়”—এই একটি বাক্যই আমাদের সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ করে দেয়। বাস্তবতা হলো, মানুষের মস্তিষ্ক স্থির কোনো যন্ত্র নয়। এটি প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান, নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে পুনর্গঠন ও বিকশিত করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। বিজ্ঞান একে বলে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’—অর্থাৎ শেখার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের গঠন ও কর্মক্ষমতা বদলে যাওয়া।

তাই নিজের সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং শেখার ক্ষমতাকে নিয়মিত কাজে লাগাতে হবে। একটি বই পড়া, একটি নতুন দক্ষতা আয়ত্ত করা, একটি সমস্যার ভিন্ন সমাধান ভাবা—এই ছোট ছোট অনুশীলনগুলোই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। আর সক্রিয় মস্তিষ্কই তৈরি করে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও প্রজ্ঞাবান মানুষ।

প্রতিটি নতুন শিক্ষা আসলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। যে শিক্ষার্থী আজ একটি কঠিন অঙ্ক কষে শিখল, সে কাল একটি জটিল বাস্তব সমস্যার সমাধান করবে। যে তরুণ আজ একটি নতুন ভাষা শিখছে, সে কাল বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। যে উদ্যোক্তা আজ একটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে, সে কাল একটি সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।

আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিও নির্ভর করে এই সম্মিলিত মেধা ও সৃজনশীলতার ওপর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় যদি আমরা প্রশ্ন করার, ভুল থেকে শেখার এবং নতুন কিছু চেষ্টা করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে ব্যক্তির পাশাপাশি জাতিও এগিয়ে যাবে।

শেষ কথা হলো, মস্তিষ্ককে অব্যবহৃত ফেলে রাখলে তা মরচে ধরে। আর ব্যবহার করলে তা হয়ে ওঠে আলোর উৎস। তাই আসুন, নিজেকে ছোট না ভেবে, ভয়কে জয় করে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখি। কারণ আপনার ভেতরের সম্ভাবনাই আগামীর বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।

লেখকঃ এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..