নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য রেলওয়ের জমিতে সিটি করপোরেশনের নেওয়া উদ্যোগে বাধা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সিটি করপোরেশনের বিছানো ইট তুলে দেয় রেলওয়ে।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও রেলওয়ে কর্মকর্তার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রউফের নেতৃত্বে চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে এক্সকাভেটর দিয়ে রেললাইনের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হকার পুনর্বাসনের জন্য সিটি করপোরেশনের বিছানো ইটগুলোও তুলে ফেলা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সরকারি উন্নয়নকাজে বিছানো ইট তুলে ফেলায় তিনি প্রকল্প পরিচালকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকেরা বিভিন্ন মার্কেট করে রেলওয়ের জায়গা দখল করে রেখেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তো আপনারা কিছু করছেন না। আমরা তো একটা সরকারি সংস্থা। আপনাদের এই জায়গার প্রয়োজন হলে আমার সাথে কথা বলতেন। তা না করে হঠাৎ এসে ভেকু লাগিয়ে সব গুঁড়িয়ে দিলেন।’
হকার পুনর্বাসন জনগণের স্বার্থে করা হচ্ছে উল্লেখ করে নাসিক প্রশাসক বলেন, ‘রেলমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে স্থায়ী কিছু করা হয়নি, শুধু ইট বিছানো হয়েছিল। আপনাদের প্রয়োজন হলে আমি নিজে এসে জায়গা হস্তান্তর করে দিতাম।’
জবাবে প্রকল্প পরিচালক সেলিম রউফ বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। আমাদের প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টের ওপর কে বা কারা রাস্তা সোলিং করেছে এবং ঘর তুলেছে। জমিটি খালি করে না দিলে ঠিকাদার কাজ করতে পারবে না। তাই রেলওয়ে আইন অনুযায়ী আমরা এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।’
এর আগে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সাত দিনের মধ্যে ডাবল রেললাইন প্রকল্পের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দিয়েছিল।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে হকার উচ্ছেদের পর বঙ্গবন্ধু সড়ক দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগ নেয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারাও সমর্থন জানান। তবে উচ্ছেদের কয়েক দিন পরই হকাররা পুনরায় বসতে শুরু করলে তাদের পুনর্বাসনের দাবি ওঠে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নাসিক প্রশাসক রেললাইনের পাশের পরিত্যক্ত জমিতে হকারদের বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রেলওয়ের কঠোর অবস্থানের কারণে এখন এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।