আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছেন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ ফাইনালে খেলতে নেমে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগেই তিনি গুরুতর চোটে পড়েন, যা এখন জাতীয় দল ও ভক্তদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে।
এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রেইবার্গ, যেখানে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়ে ৩০ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। জয়ের পেছনে মার্তিনেজের অবদান ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্মআপ সেশনের সময়ই মার্তিনেজের ডান হাতের আঙুলে হাড় ভেঙে যায়। সাধারণত এমন চোটে খেলোয়াড়দের মাঠে না নামার পরামর্শ দেওয়া হলেও আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সেই ব্যথা উপেক্ষা করে পুরো ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেন। শারীরিকভাবে অস্বস্তিতে থাকলেও তিনি দলের হয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভও করেন।
ম্যাচ শেষে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্তিনেজ জানান, ওয়ার্মআপের সময় হঠাৎ করেই আঙুলে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং পরে জানা যায় সেটি ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, জীবনে আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি, যেখানে চোট নিয়েই এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তার ভাষায়, বল ধরার সময় আঙুল বারবার সরে যাচ্ছিল, তবুও তিনি চেষ্টা করেছেন মানসিকভাবে শক্ত থাকার এবং দলের পাশে থাকার।
চোটের পর কিছু সময় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মাঠের বাইরে থাকলেও পরে বিশেষ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করে তিনি আবার মাঠে ফেরেন। এরপর কিকঅফের সময় গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে পুরো ম্যাচ খেলেন এবং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন। তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স ভিলার রক্ষণভাগকে আরও শক্ত করে তোলে, যার ফলে প্রতিপক্ষ ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
তবে এই আনন্দের মাঝেও এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন বিশ্বকাপ। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের ঠিক আগে এমন গুরুতর আঙুলের চোট আর্জেন্টিনার দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। সমর্থকরাও উদ্বিগ্ন, কারণ মার্তিনেজ দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে মূল কারিগরদের একজন ছিলেন এই আর্জেন্টাইন ‘বাজপাখি’।
অন্যদিকে, মার্তিনেজ নিজে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে অতটা চিন্তিত নন। তিনি জানিয়েছেন, ক্লাবের এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করাই এখন তার প্রথম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি তিনি আশাবাদী যে বিশ্বকাপের আগেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং আর্জেন্টিনা দলের হয়ে আবার মাঠে নামতে পারবেন।
তবে আর্জেন্টিনা দলের মেডিকেল স্টাফ এখন তার এক্স-রে রিপোর্ট, আঙুলের অবস্থা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। সবকিছু ঠিকভাবে না এগোলে তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যেতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি আসন্ন বিশ্বকাপের বিমানে উঠতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।