• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
  • Bangla Converter
সংবাদ শিরোনাম

চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক / ২৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের শুভ সূচনা হয়েছিল তার হাত ধরেই।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের চীন সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রণীত পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেপুটি স্পিকার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি এমন একটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে দেশগুলো জনগণের শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করবে। বর্তমান বাস্তবতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংলাপের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার সময় এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে চীন সার্ককে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের চাপ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে এসব সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণ ও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

ফোরামে আরও বক্তব্য দেন ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউরো, নেপাল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দারী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সরওয়ার, চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি, ভুটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যমন্ত্রী কর্মা দর্জি এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধি দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুকতাদির বাংলাদেশি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে বক্তব্য দেন।

এবারের এক্সপোজিশনে বাংলাদেশকে থিম কান্ট্রি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। মেলায় বাংলাদেশের ৮৪টি প্যাভিলিয়ন অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশ এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়েছে।

সফরকালে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

চীনের নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তারা।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার চীনা প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। চীনা নেতারা আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আশা ব্যক্ত করেন।

সংসদীয় প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বিএনপির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব এবং সংরক্ষিত আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জেসমিন সুলতানা জুঁই।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..