• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
  • Bangla Converter
সংবাদ শিরোনাম
ফতুল্লায় সৌদি প্রবাসী যুবকের আত্মহত্যা, মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ডিসি ও এসপির কঠোর তদারকিতে শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপন লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান উৎসব সামনে রেখে বারদীতে প্রশাসনের বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা ডিসির তদারকিতে শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে স্বস্তি ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা রোধে নারায়ণগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিসি ফতুল্লায় কোরবানির গোস্তের জমজমাট হাট ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা সাংবাদিক সুজনের ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

ফতুল্লায় সৌদি প্রবাসী যুবকের আত্মহত্যা, মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক / ২৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সৌদি প্রবাসী যুবক মোঃ ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ তৌহিদের (১৮) আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে টালবাহানা ও গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের বাবা কামরুল ইসলাম তুহিনের দাবি, মামলার এজাহার থেকে প্রধান আসামী ছাড়া অন্যান্য আসামীদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য পুলিশ তাকে চাপ দিচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি এই মুহূর্তে তাদের স্মরণে নেই।

নিহত তৌহিদের পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রেম ও বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জমি লিখে দেওয়ার চাপ এবং অনবরত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ২৩ মে ফতুল্লার পূর্ব নবীনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তৌহিদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় তৌহিদের বাবা কামরুল ইসলাম তুহিন পুত্রবধূ স্বর্ণা (১৬), শাশুড়ি জেসমিন (৪০), শ্বশুর হানিফ মিয়া (৪৫) এবং খালাশাশুড়ি আমেনা বেগমকে (৩৫) আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী বাবার অভিযোগ, এই এজাহার নিয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নথিভুক্ত করতে গড়িমসি শুরু করে। কামরুল ইসলাম তুহিন জানান, “আমাকে থানা থেকে জানানো হয়েছে যে—মামলায় শুধু ১নং আসামী (নাবালিকা পুত্রবধূ) এর নাম রাখলে মামলা নেওয়া হবে, অন্য কারো নাম রাখা যাবে না। অর্থাৎ মেয়ের বাবা-মা ও খালাকে আসামী করা যাবে না।” তবে আজ (রোববার) ওসির বরাতে তিনি আরও জানান, “ওসি সাহেব আমাকে আজ সন্ধ্যায় থানায় যেতে বলেছেন। আমি যাবো, তবে পুলিশকে পরিষ্কার বলে দিয়েছি যে—আমি শুধু নাবালিকা মেয়েটিকে নয়, তার মা-বাবাসহ অন্যান্যদেরও এই মামলায় আসামী করবো। কারণ তারাই মূলত আমার ছেলের বয়স বেশি দেখিয়ে বিয়ে করিয়েছে এবং তাকে আত্মহত্যার জন্য সম্মিলিতভাবে প্ররোচিত করেছে।

এদিকে মামলা রুজু করার বিষয়ে জানতে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে ডিউটি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। ওসির নির্দেশনা অনুযায়ী থানার ডিউটি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এমন কোনো মামলার বিষয়ে আমি জানি না, আপনি মুন্সির সাথে যোগাযোগ করেন।”

পরবর্তীতে থানার মুন্সি জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানালে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এ ধরনের কোনো মামলা এখনও থানায় রুজু হয় নি।”

মামলা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুনরায় ফতুল্লা থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমার কাছে অনেক মামলা আসে, সব আমার মুখস্থ থাকে না। আমি এখন বাইরে আছি, এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার স্মরণে নাই যে মামলা হয়েছে নাকি হয় নাই।”

নিহতের স্বজনদের প্রশ্ন, একটি যুবকের আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় এজাহার দেওয়ার পরও কেন মামলা নিতে পুলিশের এই টালবাহানা? কেনই বা আসামী বাদ দেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে? এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকসন্তপ্ত পিতা।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..