সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়া নিয়ে চলমান আইনি বিরোধে শ্মশানের পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি আম্বার পেপার মিলসের করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন।
ফলে শ্মশানের উন্নয়ন কাজে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো: সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘রোববার দুপুরে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চলমান রাখতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত প্রমাণ করেছে যে আইনের শাসন ও ন্যায়ের প্রশ্নে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, আদালতের এই রায় তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
জানা গেছে, এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় প্রায় ৭০০ শতাংশ (৭ একর) জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হিসেবে হিসাব করলে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় শত কোটি টাকারও বেশি। এই স্থায়ী বন্দোবস্তের বৈধতা, জমির প্রকৃত মালিকানা এবং প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি শ্মশান ও মন্দিরের অস্তিত্ব নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যে মামলাটি নতুন মোড়ে পৌঁছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা ও অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে একাধিক পাইলিং পিলারও স্থাপন করা হয়।
মামলার বাদী আম্বার পেপার মিলসের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব এবং আইনগত লড়াই অব্যাহত রাখব।’