রাজধানীর পলবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হবে। বাকি বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করি, সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রামিসা হত্যাকাণ্ড ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, পেশাদার অনেক অপরাধী, যারা দীর্ঘদিন আইনের চোখে ধুলো দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা, আছিয়া, তনু হত্যাকাণ্ড, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ এবং গাজীপুরের ফাইভ মার্ডারসহ সাম্প্রতিক আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের তালিকা তৈরি করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারও করা হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি বলেন, সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে, এজন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জাবাবে মন্ত্রী বলেন, বিচারহীনতার কথা মানুষ সবসময় বলে থাকে, তবে তা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয় বলে মানুষ মনে করে বিচার পাবে না। কিন্তু এ ধরনের (রামিসা হত্যাকাণ্ড) অপরাধে দ্রুত আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই ধরনের কার্যক্রমের কথা উলেখ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানগুলো মূলত ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেন অপরাধ সংঘটিত হতে না পারে। আর ধর্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্খিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রি-অ্যাক্টিভ’ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেফতার ও তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে তালিকাভুক্ত করে তদন্তে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা। এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।