রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর দাবি
.
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরে একদল দুর্বৃত্ত বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি স্বল্প আয়ের নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এ রকম একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন হামলা এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বার্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বাড়ায় বলে আমরা মনে করি।
.
আমরা নাগরিক সংগঠন সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক এর পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা এজাহারভুক্ত হামলায় জড়িত অবশিষ্টদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সবার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তাও নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
.
আমরা মনে করি, জমির মালিকানা বা ব্যবহার নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো বিরোধই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট বা দখলের যুক্তি হতে পারে না। ক্লিনিকের ১০ কাঠা জমি দখলের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। লুট হওয়া টিকা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নথিপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ক্লিনিক দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে নিয়মিত সেবার ওপর নির্ভরশীল মা ও শিশুরা যাতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সেবার ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
.
আমরা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করুন। হামলার সময় শাহ আলী থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ওসিসহ কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি বা হামলাকারীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিন। আমরা মনে করি, তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে জানালে এবং ক্লিনিকটি পুরোপুরি পুনরায় চালু করা হলে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
.
বিচারপতি এম এ মতিন
চেয়ারপার্সন, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক
এবং
ড. বদিউল আলম মজুমদার
প্রধান নির্বাহী
সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক