• শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
  • Bangla Converter
সংবাদ শিরোনাম
প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি অবশেষে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন বক্তাবলী ফেরিঘাটে শাহ সিমেন্টের কাভার্ড ভ্যান চাপায় মাদ্রাসা ছাত্র নিহত নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ফতুল্লায় ভুয়া সনদে ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গা নারী গ্রেপ্তার দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে নারায়ণগঞ্জের ৬ জন নিহত শীতলক্ষ্যায় গোসল করতে নেমে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু সোনারগাঁয়ে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ১২ কর্মী গ্রেপ্তার ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়নকে নাসিকের অন্তভূক্ত করার দাবি ফতুল্লায় শ্রমিক লীগ নেতা টিক্কা গ্রেপ্তার

প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি

আলোকিত নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক / ৩৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আপত্তি সত্ত্বেও জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাতে শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় চাষাঢ়া ও বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম। চাষাঢ়া পঞ্চায়েত পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নুরুল হুদার সভাপতিত্বে ও বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। আরো বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন মাহমুদ, দেওভোগ পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সুজন মাহমুদ, গভীর নলকুপ ব্যবহারকারী মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, জামতলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিপিডিসি কৃর্তক কোনো প্রকার আগাম নোটিশ, ন্যূনতম জনমত বা গণশুনানি ছাড়াই গ্রাহকদের ওপর জোরপূর্বক, একতরফাভাবে এই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সভায় প্রিপেইড মিটার নিয়ে যেসব ভোগান্তি সেগুলো তুলে ধরে বক্তারা বলেন, যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে সেখানে কোনো প্রকার আগাম সংকেত বা মানবিক বিবেচনা ছাড়াই ব্যালেন্স শেষ হওয়ামাত্রই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে, বিশেষ করে ঘরে মুমূর্ষু রোগী, নবজাতক শিশু কিংবা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রাক্কালে এই আকস্মিক ও নিষ্ঠুর বিদ্যুৎহীনতা জনজীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা চরম অমানবিক। প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাটের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা অন্যায়ভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর ডিপিডিসি-র প্রকাশ্য ও জোরজুলুমমূলক নীতি। ডিপিডিসি-র অনলাইন রিচার্জ সিস্টেম ও ডিজিটাল অবকাঠামো চরমভাবে ত্রুটিপূর্ণ। প্রায়শই সার্ভার অচল থাকার কারণে টাকা পরিশোধ করেও গ্রাহকরা ব্যালেন্স পাচ্ছেন না। এছাড়া কার্ড পাঞ্চের জটিলতা ও মিটার লক হয়ে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ অফিসের কোনো তাৎক্ষণিক রেসপন্স বা কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায় না, যা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা।

মিটারে প্রদত্ত ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের পরিমাণ এতটাই নামমাত্র ও নগণ্য যে, তা সংকটের মুহূর্তে গ্রাহকের কোনো কাজেই আসে না। এটি বিপদে পড়া গ্রাহকদের সাথে এক ধরণের নির্মম তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ কোনো দয়া, অনুদান বা উপহার নয়; এটি জনগণের করের টাকায় সচল থাকা একটি মৌলিক অধিকার। গ্রাহকদের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তাদের পুতুল ভেবে এমন একটি গণবিরোধী ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস মৌলিক অধিকারের চরম পরিপন্থী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। বিদ্যুৎ বিভাগ যদি কারো বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করতে চায় তাহলে সে ডাকাত। সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে ডাকাতের মতোই আচরণ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা নাটক বন্ধ করেন। আমরা কিন্তু নাটকের প্রতি উত্তর দিয়ে দিব। আমরা কিন্তু বসে থাকবো না। প্রিপেইড মিটার লাগাতে পারবেন না। জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম বিনা অনুমতিতে কোন সংস্থা কারো বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেনা এমন একটি নোটিশ জারি করার জন্য। তিনি আরো বলেন, আমরা জানি নিপীড়ণ আসতে পারে। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। আমরা সেসব ফেস করবো। জেলে যেতে হলে যাবো তবুও প্রিপেইড মিটার লাগাতে পারবেননা। এটা একদম স্পষ্ট কথা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা জানি আপনি ফেসবুকে দেখে অনেক ভাল ভাল কাজ করেন। আপনি বিদ্যুৎ জ্বালানী মন্ত্রীকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিন। আমরাতো বলেছি প্রিপেইড মিটার আমাদের জন্য ভালো এটা যদি আপনি আমাদের বোঝাতে পারেন তাহলে আমরা মিষ্টিমুখ করিয়ে প্রিপেইড মিটার লাগাবো। আপনি আমাদের সকলের উপস্থিতিতে গণশুনানী দিন। কিন্তু কোন ধরনের নাটক করে প্রিপেইড মিটার লাগাতে দেয়া হবেনা। এই প্রিপেইড মিটার ছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার চুরির ফসল। আমাদের কাছে সব ধরনের প্রমাণ রয়েছে।


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..